আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর ভেলোর জেলায় পোঙ্গল উৎসবের আমেজ মুহূর্তে বদলে গেল বিষাদে। রবিবার গ্রামে সেখানকার এক বিশেষ প্রথা অনুযায়ী ষাঁড়ের দৌড় প্রতিযোগিতা ছিল। সেখানে পিষে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে আহত হয়েছেন পুলিশ ইন্সপেক্টরসহ আরও অন্তত ২৭ জন।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন ভেলোরের গোবিন্দ রেড্ডিপালয়ম গ্রামে স্থানীয় ‘এরুথুভিট্টল ভিজা’ অর্থাৎ ষাঁড়ের দৌড় দেখতে কয়েক হাজার মানুষের ভিড় জমেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত বৃদ্ধের নাম তিলকর (৬৫)। তিনি পাশের জেলার বাসিন্দা হলেও মেয়ের বাড়িতে পোঙ্গল উৎসব পালন করতে এসেছিলেন। ফিনিশিং পয়েন্টে দাঁড়িয়ে খেলা দেখার সময় একটি বেপরোয়া ষাঁড় সজোরে তাঁকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।
জানা গিয়েছে, প্রতিযোগিতায় ১০০-র বেশি ষাঁড় অংশ নিয়েছিল। ভিড়ের চাপে এবং ষাঁড়ের গুঁতোয় আহত হন কমপক্ষে ২৭ জন। তাঁদের মধ্যে ডিউটিতে থাকা সথুভাচরি থানার এক পুলিশ ইন্সপেক্টরও রয়েছেন। উৎসব প্রাঙ্গণেই অস্থায়ী চিকিৎসা শিবিরে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্যদিকে নিহতের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে আরিয়ুর থানার পুলিশ।
উল্লেখ্য, পুদুকোট্টাই জেলার ভাদামালাপুরমেও বিপুল উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী জাল্লিকাট্টু। কয়েকশো বছরের পুরনো এই খেলায় ষাঁড়ের কুঁজ ধরে সেটিকে কাবু করার চেষ্টা করেন যুবকরা। মূলত ষাঁড়ের শিংয়ে বেঁধে রাখা মুদ্রার থলি সংগ্রহ করাই এই খেলার আসল লক্ষ্য। তামিল সংস্কৃতিতে এই উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। ভালো মানের লড়াকু ষাঁড়ের দামও বাজারে চড়া থাকে।
অন্যদিকে, চেন্নাইয়ের কাছে এক পরিযায়ী শ্রমিককে নৃশংসভাবে মারধর করা হল। অভিযোগে চার কিশোরকে গ্রেপ্তার করল তামিলনাড়ু পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে ট্রেনের ভিতরে৷ সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। জানা গিয়েছে, চেন্নাই থেকে তিরুত্তানিগামী একটি লোকাল ট্রেনের ভেতরে ওই চার জন মিলে এক ব্যক্তিকে ক্রমাগত হেনস্থা ও মারধর করছে। শুধু তাই নয়, হামলার পর রক্তাক্ত দেহের পাশে দাঁড়িয়ে এক অভিযুক্তকে ‘বিজয় চিহ্ন’ দেখাতেও দেখা গিয়েছে। এমনকী সেই মারধরের ভিডিওর সঙ্গে তামিল গান জুড়ে দিয়ে তারা ইনস্টাগ্রামে ‘রিল’ বানিয়ে পোস্ট করে। এই ঘটনা ঘিরে হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে৷
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি তিরুভল্লুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত চারজনেরই বয়স ১৭ বছর। পুলিশ তাদের আটক করলে আদালত তিনজনকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তবে পড়াশোনার কথা বিবেচনা করে একজনকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। শিবগঙ্গার সাংসদ কার্তি চিদম্বরম পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অবিলম্বে রাজ্যজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দল এআইএডিএমকে-র অভিযোগ, শাসক দল ডিএমকে রাজ্যে মাদকের রমরমা রুখতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের দাবি, এই অপরাধীদের কিশোর নয়, বরং প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করা উচিত।
পাল্টা জবাবে ডিএমকে নেতা টিকেএস ইলানগোভান জানিয়েছেন, এটি একটি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’। তাঁর দাবি, পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করেছে, রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকরা সম্পূর্ণ নিরাপদেই আছেন। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে৷
