আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েছে। এরই মাঝে সঙ্কটের সময় কালোবাজারি রুখতে এবং সিলিন্ডারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত সরকার এলপিজি বুকিংয়ের সময়কাল ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করেছে। সরকারি সূত্র সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছে, অগ্রিম মজুত করা এবং কালোবাজারি বন্ধ করার জন্য এলপিজি বুকিংয়ের সময়কাল ২৫ দিন করা হয়েছে। সূত্রটি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের কারণ, যাঁরা ৫৫ দিনের মধ্যে এলপিজি সিলিন্ডার বুক করেছিলেন, তাঁরা যুদ্ধের আবহে ১৫ দিনের মধ্যে গ্যাস বুক করা শুরু করেছিলেন।

এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, “আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। অনেক দেশের তুলনায় আমরা অনেক ভাল পরিস্থিতিতে আছি। পাকিস্তানের অবস্থাই দেখুন না।” ওই আধিকারিক দাবি করেছেন, দেশের প্রতিটি পেট্রল পাম্প চালু রয়েছে। দেশে আপাতত পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রল মজুদ রয়েছে। ভারতে বিমানের টারবাইন জ্বালানি বা এটিএফেরও পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

সরকারি সূত্রে দাবি, দেশে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। যতক্ষণ না অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৩০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা আশা করছি অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি থাকবে।” সরকারি সূত্রটি জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকা-ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় ভারত সরকার তেল শোধনাগারগুলিকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। তেল শোধনাগারগুলিকে বাণিজ্যিক সংযোগের চেয়ে দেশীয় এলপিজি উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতও এলপিজি সরবরাহের জন্য বিকল্প বিকল্প খুঁজছে। আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নরওয়ের মতো দেশগুলিও এলপিজি সরবরাহে সহায়তা করার জন্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক ইতিমধ্যেই তেল সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে গৃহস্থালির এলপিজি ব্যবহারের জন্য প্রোপেন এবং বিউটেন উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিতে। গৃহস্থালীর রান্নার গ্যাসের ঘাটতি রোধ করতে পুনে পুর কর্পোরেশন (পিএমসি) দ্বারা পরিচালিত গ্যাস-ভিত্তিক শ্মশান চুল্লিগুলি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

৭ মার্চ দেশজুড়ে ১৪.২ কেজির ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা বেড়েছে। সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলারেরও বেশি উঠে যায়। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে তেলের দাম এতটা বাড়েনি। এর কারণ, কিছু প্রধান তেল উৎপাদক সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে দীর্ঘস্থায়ী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।