আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে ইন্দোনেশিয়া। সোমবার সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সকে এই বিষয়ে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র রিকো রিকার্ডো সিরাইত। ভারত ও রাশিয়ান সরকারের যৌথ মালিকানাধীন সংস্থা ব্রহ্মোস ২০২৩ সালে রয়টার্সকে জানিয়েছিল, তারা জাকার্তার সঙ্গে ২০০ মিলিয়ন থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের (৩২০০ কোটি টাকা) একটি চুক্তির বিষয়ে অগ্রিম আলোচনা করছে। সেই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানাল ইন্দোনেশিয়া।

রিকো রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর সামরিক হার্ডওয়্যার এবং প্রতিরক্ষা ক্ষমতার আধুনিকীকরণের অংশ। যদিও তিনি চুক্তির মোট মূল্য জানাতে রাজি হননি। ব্রহ্মোস এবং ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ব্রহ্মোস ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় প্রতিবেশী ফিলিপিন্সের সঙ্গে প্রথম বিদেশী চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। 

ব্রহ্মোস একটি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটিকে বিশ্বের দ্রুততম এবং সবচেয়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচনা হয়। ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ট্রোয়েনিয়ার যৌথ উদ্যোগে গঠিত। ব্রহ্মোস নামটি দু’টি নদীর নাম থেকে তৈরি ব্রহ্মপুত্র (ভারত) এবং মস্কোভা (রাশিয়া)।

এটি শব্দের প্রায় ২.৮ থেকে ৩ গুণ গতিতে ভ্রমণ করে। যার ফলে বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এটিকে আটকানো প্রায় অসম্ভব। এটি স্থল, সমুদ্র, সমুদ্র উপকূল এবং আকাশ (Su-30MKI যুদ্ধবিমান) থেকে উৎক্ষেপণ করা যেতে পারে। এটি ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ নীতিতে কাজ করে যার সার্কুলার এরর প্রবাবিলিটি (CEP) মাত্র ১ মিটার। এর পাল্লা ২৯০ কিমি। যা ৪৫০ থেকে ৮০০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এটি রাডার এড়াতে ৩-১০ মিটার পর্যন্ত সমুদ্র-স্কিমিং অর্থাৎ সমুদ্রের জলতলের খুব কাছ দিয়ে অথবা ১৫ কিমি পর্যন্ত উচ্চ উচ্চতায় উড়তে পারে।

ব্রহ্মোসের পরবর্তী প্রজন্ম নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্রহ্মোস-এনজি (নেক্সট জেনারেশন) এলসিএ তেজাসের মতো বিমানের জন্য একটি ছোট, হাল্কা এবং আরও গোপন সংস্করণ। ব্রহ্মোস-২ একটি পরিকল্পিত হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র যা ম্যাক ৭-৮ এর বেশি গতিতে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। অপারেশন সিঁদুরের সময় ব্রহ্মোসের সাহায্যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছিল ভারত।