আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওড়িশার জাজপুরে এক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। গত সপ্তাহের এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। জাজপুর জেলার পুলিশ সুপার যশপ্রতাপ শ্রীমল জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে নিহত ব্যক্তির স্ত্রীও রয়েছেন।
জানা গিয়েছিল নিহতের নাম সৌম্য সাগর সামাল। জয়পুরের গড়িয়াপুর চকে তাঁর মাংসের দোকান ছিল। ঘটনার দিন রাতে দোকান বন্ধ করে তিনি কালিমেঘায় নিজের ভাড়া বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এমন সময়ে দু’জন বাইক আরোহী হঠাৎ আসে এবং তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত হন সৌম্য। স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত জাজপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে তাঁকে কটকের এসসিবি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাঁর স্ত্রী শুভশ্রী বেহেরা ওরফে সীমাকে গ্রেপ্তার করেছে। সঙ্গে তার প্রেমিক ছাড়াও তার ভাই–বোনদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত তাপস কুমার খিলার ও প্রীতি প্রভা প্রিয়দর্শিনী খিলাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জাজপুরের এসপি জানান, ‘এই মামলার তদন্তের জন্য পুলিশ তিনটি আলাদা দল গঠন করেছিল। মূল অভিযুক্ত তাপস। সে রাউরকেল্লায় গাড়ি চালায়। তাকে সেকান থেকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর তার রাউরকেল্লার গোপন আস্তানা থেকেই আরও দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, নিহতের স্ত্রী একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। ১৮ মাস আগে সৌম্যর সঙ্গে তিনি প্রেম করে বিয়ে করেন। তবে মৃতের সঙ্গে প্রেম হওয়ার আগে থেকেই প্রীতির সঙ্গে তাঁর পরিচিতি ছিল। ফলে প্রীতির বাড়িতে শুভশ্রীর ঘন ঘন যাতায়াত ছিল। সেই সুবাদে তাঁর দাদা তাপসের সঙ্গে আলাপ হয়। তাপস এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত।
বিয়ের পরেও তাপসের সঙ্গে শুভশ্রী সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। নিজের সহধর্মিনীকে না জানিয়ে তাপসের সঙ্গে বহু জায়গায় ঘুরতেও গিয়েছেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, তাপস নাকি শুভশ্রীকে সৌম্যর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য জোর করত।
বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই সৌম্যর সামনে আসে তাঁর স্ত্রীর এই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক। এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেন তিনি। হুঁশিয়ারি দেন এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে। কিন্তু লাভ হয়নি। চলতি মাসের ৪ তারিখ তাপসের সঙ্গে সৌম্যর কথা কাটাকাটি হয়। সেখানে তাপসের চরিত্র নিয়ে কটু মন্তব্য করেন সৌম্য। এরপরেই তাপস খুনের হুমকি দিয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রীতির কাছ থেকে ৪৯ হাজার টাকা নিয়ে একটি পিস্তল কিনে রাত্রে যখন সৌম্য ভাড়া বাড়িতে ফিরছিলেন, তখন তাঁকে গুলি করা হয়।
















