আজকাল ওয়েবডেস্ক: কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়াই অপরাধ! পুত্রবধূকে প্রাণে মারতে ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটালেন শ্বশুর। সদ্যোজাত কন্যাসন্তান সহ পুত্রবধূকে মারতে বিছানায় আগুন জ্বালিয়ে দিলেন তিনি। বরাতজোরে রক্ষা পেয়েছেন ওই গৃহবধূ ও তাঁর কন্যাসন্তান।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশায়। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, কেন্দ্রপাড়া জেলায় দমরপুর এলাকায় ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধ তাঁর পুত্রবধূকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন। কারণ সম্প্রতি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তাঁর পুত্রবধূ। সেই রাগেই তরুণীকে খুনের চেষ্টা করেন ওই বৃদ্ধ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ৭৫ বছরের বৃদ্ধ প্রফুল্ল রায় বাড়ির অদূরেই একটি দোকান থেকে পেট্রোল কিনেছিলেন। সদ্যোজাত কন্যাসন্তান ও তাঁর মা যখন বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন, সেইসময় বিছানায় পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেন বৃদ্ধ। পুত্রবধূর নাম, সুস্মিতা। ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বশুরের হামলার শিকার হন তিনি।
জানা গেছে, দাউদাউ আগুন গোটা ঘরে ছড়িয়ে পড়ার আগে সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান সুস্মিতা। নিমেষের মধ্যে বিধ্বংসী আগুন গোটা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পুড়ে খাক হয়ে যায় ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র। শীতের মধ্যে সারারাত সদ্যোজাতকে নিয়ে বাড়ির বাইরেই কাটান ওই তরুণী।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, আট বছর আগে সুশান্ত রায়ের সঙ্গে সুস্মিতার বিয়ে হয়। সুশান্তের প্রথম স্ত্রীর দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী সুস্মিতাও কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর থেকে ভয়ঙ্কর হেনস্থার শিকার হন শ্বশুরবাড়িতে। তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন স্বামী ও শ্বশুর।
পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, তরুণীর বোন এই ঘটনার অভিযোগ জানান থানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর সেপ্টেম্বরে আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। ছেলের আবারও মেয়ে হয়েছিল! পরপর দুই কন্যাসন্তানের জন্মের পর মনে মনে ক্ষুব্ধ ছিলেন ঠাকুমা। বৃদ্ধা নাতির আশা করেছিলেন। আশা পূরণ না হওয়ায় চার মাসের নাতনিকেই খুন করেন। সবার অলক্ষ্যে নাতনির শ্বাসরোধ করে খুনের কথা নিজেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল মধ্যপ্রদেশের নর্মদাপুরম জেলায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বারখেদি গ্রামেই এক বৃদ্ধা তাঁর চার মাসের নাতনিকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। নাতনিকে তাঁর পছন্দ ছিল না। তিনি চেয়েছিলেন সংসারে নাতি আসুক। সেই কারণেই নাতনিকে খুন করেন বৃদ্ধা।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, বৃদ্ধার নাম মীনাবাই আসওয়ারে। গত শুক্রবার বাড়ির পিছনে দোলনায় ঘুমিয়ে পড়েছিল চার মাসে শিশুকন্যা। ঘুমন্ত শিশুকন্যার মুখে তোয়ালে চেপে ধরে বৃদ্ধা শ্বাসরোধ করে খুন করেন। সেই সময়েই শিশুকন্যার মা ঘরের ভিতরে কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
শিশুকন্যাকে খুনের পর ওই বৃদ্ধা একটি ব্যাগের মধ্যে দেহ ভরে, শুকনো কুয়োয় ফেলে দেন। কিছুক্ষণ পরেই শিশুকন্যার নিখোঁজের খবরে গ্রামে শোরগোল পড়ে। তড়িঘড়ি পরে পরিবার ও গ্রামবাসীরা পুলিশে খবর দেন। শিশুকন্যাকে খোঁজাখুঁজির সময়েই তাঁর ঠাকুরদা কুয়োর মধ্যে একটি ব্যাগ দেখতে পান। কিন্তু সেই সময় বৃদ্ধা তাঁর স্বামীকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ওই ব্যাগে মাসিকের নোংরা কাপড় রাখা আছে।
তিনদিন পর সেই কুয়ো থেকে ব্যাগটি উদ্ধার করে শিশুকন্যার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে মৃত শিশুকন্যার বাবা জানিয়েছেন, খুনের তিনদিন পর বৃদ্ধা খুনের ঘটনাটি স্বীকার করে নিয়েছিলেন। তিনিও কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশি জেরায় বৃদ্ধা খুনের কথা স্বীকার করে নেন। তিনি আরও জানান, পরিবারে দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের আগমনের পর তিনি খুশি ছিলেন না। মন থেকে নাতনিকেও মেনে নিতে পারেননি। তিনি চেয়েছিলেন, ছেলের দ্বিতীয় সন্তান ছেলে হোক।
