আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের সম্পর্ক জাঁতাকলে জীবন শেষ! এবার তেলেঙ্গানায় এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটে গেল। এক মহিলা তাঁর প্রেমিক ও আরও এক ব্যক্তির সাহায্যে স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। প্রথমে বহুতল থেকে ধাক্কা দিয়ে স্বামীকে খুনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নার্স স্ত্রী নিজের স্বামীর শরীরে টয়লেট ক্লিনার ও রাসায়নিক পদার্থ ঢুকিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী প্রশান্ত সম্প্রতি বিদেশ থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, স্ত্রী সন্ধ্যার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, সন্ধ্যা ও তাঁর প্রেমিক অনিল ও তাঁর বন্ধু বান্টি—এই তিনজন মিলে প্রশান্তকে খুনের পরিকল্পনা করে। ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার নিজামাবাদ জেলার ন্যালকাল গ্রামে।

 

পুলিশের দাবি, পরিকল্পনামাফিক সন্ধ্যা বান্টিকে নির্দেশ দেন, আড্ডার ছলে প্রশান্তকে অতিরিক্ত মদ্যপান করাতে। গত ২৯ জুন মদ্যপানের পর প্রশান্ত ও বান্টি বাড়ির ছাদে যান। সেখানে দু'জনের মধ্যে বচসা ও হাতাহাতি হয়। অভিযোগ, এরপর বান্টি ও সন্ধ্যা মিলে প্রশান্তকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান প্রশান্ত। প্রথমে তাঁকে একটি সরকারি হাসপাতালে এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

পুলিশের অভিযোগ, প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর নার্স হিসেবে কর্মরত সন্ধ্যা গত ৩০ জুন দ্বিতীয়বার হত্যার চেষ্টা করেন। তদন্তকারীদের দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রশান্তের ক্যানুলার মাধ্যমে তিনি টয়লেট ক্লিনার এবং আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ তাঁর শরীরে ঢুকিয়ে দেন। এর ফলেই প্রশান্তের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। ১ জুলাই প্রশান্তের মা ছেলের মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

 

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বান্টি নিজের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। পুলিশের রেকর্ড করা একটি কথোপকথনে বান্টিকে বলতে শোনা যায়, "আমাদের মধ্যে মারামারি হয়েছিল। তারপর ওর স্ত্রী সেখানে আসে। আমরা দু'জনে মিলে জোর করে ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিই।" তিনি আরও দাবি করেন, "এটা ওরই পরিকল্পনা ছিল। ও আমাকে টাকা দিয়েছিল।" ৪ জুলাই পুলিশ সন্ধ্যা, প্রেমিক অনিল এবং বান্টিকে গ্রেফতার করে।