আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিন দিনের বিদেশ সফরে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই তিন দেশের তালিকায় ছিল ইন্দোনেশিয়াও। সেখানেই দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হল ঐতিহাসিক চুক্তি। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে একগুচ্ছ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীকে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।

 

এই সফরে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে এক উল্লেখযোগ্য সম্পর্কের সূচনা হয়েছে। দুই দেশই সমুদ্র নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংক্রান্ত তাদের আগের সমঝোতা চুক্তিতে কিছুটা বদল এনেছে। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চমক ইন্দোনেশিয়ার কাছে ভারতের ব্রহ্মোস মিসাইল সিস্টেম বিক্রির চুক্তি। পাশাপাশি 'ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড' এবং ইন্দোনেশিয়ার 'রিপাপবলিকর্প'-এর মধ্যে একটি মিসাইল তৈরির সহযোগিতা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।

 

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশই ইস্পাত এবং খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থার সম্পর্ক মজবুত করতে সম্মত হয়েছে। এ জন্য ভারতের স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং ইন্দোনেশিয়ার পিটি ক্রাকাতৌ স্টিল-এর মধ্যে একযোগে কাজ করবে। এছাড়াও ভারতের 'নন-ফেরাস মেটেরিয়ালস টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার' (এনএফটিডিসি)-এর সঙ্গেও এই কাজের অন্যতম অংশীদার হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

 

শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে আইআইএম ব্যাঙ্গালোর এবং ইন্দোনেশিয়ার 'পিটি ইন্টেলিজেনশিয়া গ্রহাতমা'-র মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। পাশাপাশি, ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক প্রাম্বানান মন্দির প্রাঙ্গণ সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

 

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে দুই দেশের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, টেলিকমিউনিকেশন, মেডিকেল পণ্যের নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ও উদ্ভাবন, নির্বাচন পরিচালনা এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের যৌথ কর্মসংস্থানের মতো নানা বিষয়ে আরও বেশ কিছু মউ স্বাক্ষর হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী সফরকে ঘিরে ইন্দোনেশিয়া সরকারের তরফে আতিথেয়তা সকলের নজর কেড়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো নিজেই বিমানের সামনে এসে মোদিকে উষ্ণ আলিঙ্গনে স্বাগত জানান। এ সময় ছয়টি তোপধ্বনির তাঁকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানানো হয়। জাকার্তার রাষ্ট্রপতির প্রাসাদে আয়োজন করা হয় মূল অনুষ্ঠানের। সেখানে উপস্থিত ছিল ঘোড়সওয়ার বাহিনী এবং সামরিক বাহিনী। পাশাপাশি, দুই দেশের বৈদিক ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যকে তুলে ধরে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।

 

এই জমকালো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেই প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'বিনতাং আদিপূর্ণ'-এ ভূষিত করেন। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং দুই দেশের সম্পর্ককে মজবুত করার ক্ষেত্রে মোদির ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিতেই এই সম্মাননা বলে জানান প্রাবোও। সম্মাননা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী মোদী তা নিজের দেশবাসীর উদ্দেশেই উৎসর্গ করেন।