আজকাল ওয়েবডেস্ক: যদি স্ত্রীর কোনও কাজ বা নিষ্ক্রিয়তা তাঁর স্বামীকে উপার্জনে অক্ষম করে তোলে, তবে তিনি বিবাহবিচ্ছেদের পর স্বামীর কাছ থেকে খোরপোশ দাবি করতে পারেন না। একটি বিতর্কিত মামলার প্রেক্ষিতে এমনই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
ঘটনাটি কুশিনগরের। কুশিনগরে স্বামী বেদ প্রকাশ সিং পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। অভিযোগ, একদিন তাঁর ক্লিনিকে স্ত্রীর ভাই ও বাবা এসে অশান্তি করেন। সেই বচসা চলাকালীনই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ওই গুলির তাঁর মেরুদণ্ডে আটকে যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যে, অস্ত্রোপচার করলে পক্ষাঘাতের ঝুঁকি রয়েছে। ফলে অস্ত্রোপচার হয়নি। বর্তমানে বেদ প্রকাশ সিং ঠিকমতো বসতে পারেন না। কাজও করতে পারেন না। এই অবস্থা দেখেও স্ত্রী খোরপোশের দাবি জানিয়েছিলেন।
মামলা গড়ায় আদালতে। ২০২৫ সালের ৭ মে পারিবারিক আদালত স্ত্রীর অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশের আবেদন খারিজ করে দেয়। হাইকোর্ট পারিবারিক আদালতের সেই সিদ্ধান্তকে বহাল রেখেছে। বিচারপতিরা বলেছেন যে, ব্যক্ত্যির শারীরিক অক্ষমতা অবিসংবাদিত এবং এই অবস্থার জন্য দায়ী সরাসরি স্ত্রী ও তাঁর শ্বশুরের পরিবার।
বিচারপতি শুক্লার পর্যবেক্ষণ, "যদিও ভারতীয় সমাজে সাধারণত একজন স্বামীর কাছ থেকে তাঁর পরিবারকে ভরণপোষণ দেওয়ার আশা করা হয়, এই মামলাটি একটি অনন্য পরিস্থিতি উপস্থাপন করেছে। এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, যদিও স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেওয়া স্বামীর একটি পবিত্র কর্তব্য, কিন্তু কোনও আদালত স্ত্রীর উপর এমন কোনও সুস্পষ্ট আইনি দায়িত্ব আরোপ করেনি। বর্তমান মামলার তথ্যের ভিত্তিতে, প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, স্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের আচরণ প্রতিপক্ষকে (স্বামীকে) জীবিকা উপার্জনে অক্ষম করে তুলেছে। যদি কোনও স্ত্রী তাঁর নিজের কাজ বা নিষ্ক্রিয়তার মাধ্যমে তার স্বামীকে উপার্জনে অক্ষম করে তোলে বা এতে অবদান রাখে, তবে তাঁকে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে এবং খোরপোশ দাবি করার অনুমতি দেওয়া যাবে না।"
বিচারপতিদের স্পষ্ট কথা, "এই পরিস্থিতিতে খোরপোশ মঞ্জুর করলে স্বামীর প্রতি গুরুতর অবিচার হবে এবং আদালত নথিপত্র থেকে উদ্ভূত বাস্তবতা থেকে চোখ বন্ধ রাখতে পারে না।"
