আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বিলাসপুর হাইকোর্ট  সম্প্রতি এক তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে, আইনত কোনও  বাধা না থাকলে নিজের বাসভবনে ধর্মীয় প্রার্থনা সভা আয়োজন করার জন্য প্রশাসনের কাছ থেকে আগাম অনুমতির প্রয়োজন নেই। বিচারপতি নরেশ কুমার চন্দ্রবংশীর একক বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নাগরিকদের মৌলিক ও নাগরিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা রাষ্ট্রের কাজ নয়। বিশেষ করে যখন কোনও  ব্যক্তি তাঁর নিজস্ব পরিসরে ব্যক্তিগতভাবে উপাসনা করছেন, তখন পুলিশ বা পঞ্চায়েত সেখানে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।

ঘটনাটি ছত্তিশগড়ের জাঞ্জগির-চম্পা জেলার গোধনা গ্রামের। সেখানকার এক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী পরিবার অভিযোগ করেছিলেন যে, ২০১৬ সাল থেকে তাঁরা নিজেদের দোতলা বাড়ির ছাদে রবিবারের প্রার্থনা সভার আয়োজন করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি নওয়াগড় থানার পুলিশ এবং স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত তাঁদের এই ধর্মীয় কাজে বারবার বাধা দিচ্ছিল। পুলিশ তিনবার নোটিশ পাঠিয়ে তাঁদের প্রার্থনা সভা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, প্রশাসনের এই আচরণ ভারতীয় সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী এবং তাঁদের মৌলিক অধিকারের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ।

মামলার শুনানির সময় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জবাব দেওয়ার জন্য বাড়তি সময় চাওয়া হলেও আদালত তা মঞ্জুর করেনি। বিচারপতি চন্দ্রবংশী সাফ জানান, কোনও  ব্যক্তির নিজস্ব জমিতে বা বাসভবনে উপাসনা করার জন্য বিশেষ কোনও  অনুমতির বাধ্যবাধকতা বর্তমানে কোনও  আইনি বিধিতে নেই। যদি সেই সভার মাধ্যমে কোনও  আইন লঙ্ঘন না হয় কিংবা জনশান্তি বিঘ্নিত না হয়, তবে পুলিশ বা অন্য কোনও  কর্তৃপক্ষ সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। আদালত নওয়াগড় থানার ওসি-র পাঠানো নোটিশগুলো বাতিল করে দেয় এবং পুলিশকে নির্দেশ দেয় যাতে তদন্তের নামে আবেদনকারীদের কোনোভাবে হেনস্তা না করা হয়।

আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে আরও যোগ করে যে, আবেদনকারীরা ওই জমির রেজিস্টার্ড মালিক। নিজের সম্পত্তিতে ধর্মীয় আচার পালন করা তাঁদের নাগরিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। তাই 'অনুসন্ধান' বা অন্য কোনও  অজুহাতে পুলিশ যেন তাঁদের নাগরিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এই রায়কে ছত্তিশগড়ের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে ব্যক্তিগত পরিসরে উপাসনার যে স্বাধীনতা সংবিধান দিয়েছে, এই রায়ে ফের তারই প্রতিফলন ঘটল। পুলিশি অতিসক্রিয়তা কমিয়ে ব্যক্তি স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করাই ছিল এই নির্দেশের মূল অভিমুখ। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যতক্ষণ না কোনও  কাজ দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী হচ্ছে, ততক্ষণ প্রশাসন কোনও  নাগরিককে তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস পালনে বাধা দিতে পারে না।