আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভরা রাস্তায় বিবাহিত যুবতীর সর্বনাশ। বাড়ি ফেরার পথেই জামা ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি। জনসমক্ষে গণধর্ষণের চেষ্টা। অভিযুক্তরা সকলেই তাঁর পূর্ব পরিচিত। ভর সন্ধ্যায় যুবতীর শ্লীলতাহানি চোখের সামনে দেখেও, কেউ বাঁচাতে ছুটে এলেন না, অভিযোগ জানিয়েছেন ওই নির্যাতিতা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের নালন্দা জেলায়। গত ২৬ মার্চ। কিন্তু গত সোমবার ও মঙ্গলবার বিবাহিত যুবতীর শ্লীলতাহানির মুহূর্তটি সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, শ্লীলতাহানি ও গণধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওই যুবতী বিবাহিত। বাড়ির অদূরে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে গিয়েছিলেন। সেই জিনিসপত্র কিনেই বাড়ি ফেরার পথে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার শিকার হন। যুবতীর দুই সন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামী মহারাষ্ট্রের নাসিকে কর্মরত।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় একাই বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। আচমকাই তিন যুবক তাঁকে ঘিরে ধরেন। টানতে টানতে রাস্তার মাঝে নিয়ে আসেন। সকলের সামনেই বিবাহিত যুবতীর জামাকাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করেন। এরপর গণধর্ষণের চেষ্টা করেন ওই তিন যুবক। গোটা ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করেন একজন। এমনকী সেখানেই ওই তিন যুবককে উল্লাসে মেতে উঠতে দেখা যায়।
জনসমক্ষে বিবাহিত যুবতী কান্নাকাটি করে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কাকুতি মিনতি করতেও দেখা গেছে তাঁকে। তা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা তাঁকে ছাড়েননি। খানিকক্ষণ পরেই ভিড় জমে যায় ওই রাস্তায়। কিন্তু কেউই যুবতীকে বাঁচাতে ছুটে আসেননি। বরং ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করতেই উঠেপড়ে লাগেন। ৪২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
গত ২৭ মার্চ নির্যাতিতা যুবতী থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। এমনকী ভিডিওটি ঘিরে তিনি অবসাদে ও আতঙ্কে ভুগছেন বলেও জানিয়েছেন। এরপর বিশেষ তদন্তকারী টিম গঠন করে ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাকিদের খোঁজ এখনও চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। নির্যাতিতা যুবতীর গ্রামের বাসিন্দা ওই অভিযুক্তরা। পূর্ব পরিচিত ছিলেন। ঘটনায় সিট গঠন করে তদন্ত চলছে।















