আজকাল ওয়েবডেস্ক: চৈত্রের শেষ দিনে বিহারে এক অধ্যায়ের অবসান। মঙ্গলবার বেলায় মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পরই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নীতীশ কুমার।

নীতীশের পরে বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? সেই ঘোষণা সম্ভবত আজই করা হবে। বিহারের রাজনীতি তো বটেই, এই সন্ধিক্ষণ রাজ্যের ক্ষমতাসীন জোট এনডিএ-এর অভ্যন্তরেও এক উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

গত ১০ এপ্রিল নীতীশ কুমার রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এই ঘটনাকে অনেকেই রাজ্য সরকারের নেতৃত্বে পুনর্গঠনের পথ প্রশস্ত করার একটি পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।

জেডি(ইউ)-এর দাবি, বিহারের উন্নয়নের পথে নীতীশই পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবেন

জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর কার্যকরী সভাপতি এবং রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় কুমার ঝা জোর দিয়ে বলেছেন যে, নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী পদে বহাল থাকুন বা না থাকুন- বিহারের অগ্রগতির প্রতি তাঁর অঙ্গীকার অটুট থাকবে।

সঞ্জয় কুমার ঝা বলেন, "বিহারের প্রসঙ্গে বলতে গেলে, আমরা এনডিএ-এর সমর্থন নিয়ে নীতীশ কুমারের নেতৃত্বেই ২০২৫-৩০ মেয়াদের নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত প্রচার চালিয়েছিলেন। নতুন সরকারও নীতীশজির নীতিগুলোই অনুসরণ করবে এবং তাঁর নির্দেশই কাজ করে যাবে। এমনকি তিনি যদি মুখ্যমন্ত্রী পদে নাও থাকেন, তবুও তাঁর মনোযোগ বিহারের দিকেই থাকবে। তিনি কেবল সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে দিল্লিতে যাবেন।"

সংবাদ সংস্থা এএনআই -এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেডি(ইউ)-এর নেতারা মনে করেন যে, কুমারের শাসনপদ্ধতি এবং নীতি-নির্দেশনা পরবর্তী সরকারকেও প্রভাবিত করবে, যা নেতৃত্বের পালাবদলের মধ্যেও ধারাবাহিকতা বজায় থাকার বিষয়টিকেই তুলে ধরে।

উত্তরাধিকারী নিয়ে বাড়ছে জল্পনা-কল্পনা
বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে চর্চা তুঙ্গে। গত ১২ এপ্রিল উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী পাটনায় নীতীশ কুমারের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ঠিক সেই সময়েই রাজ্যে নেতৃত্বের পালাবদল নিয়ে জল্পনা-কল্পনাও তীব্র আকার ধারণ করেছিল।

যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবুও ব্যাপকভাবে জল্পনা চলছে যে- পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী সম্ভবত ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) থেকেই নির্বাচিত হবেন। এটি এনডিএ জোটের অভ্যন্তরে ক্ষমতা-বণ্টনের সমীকরণে সম্ভাব্য রদবদলেরই ইঙ্গিত বহন করছে।

ওই প্রতিবেদনে জেডি(ইউ)-এর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের বিষয়টিও উঠে এসেছে। দলের কর্মীদের একাংশ নীতীশ কুমারের রাজ্যসভায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। পাটনায় দলের কর্মীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পোস্টার লাগানো হয়েছে, যেখানে নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারকে আরও বড় রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

পূর্ণ হল সব আইনসভা-যাত্রার বৃত্ত
রাজ্যসভায় নীতীশ কুমারের নির্বাচন তাঁর দীর্ঘদিনের লালিত এক আকাঙ্ক্ষার পূর্ণতা এনে দিয়েছে। আর তা হল ভারতের প্রতিটি আইনসভায় দায়িত্ব পালন করা। যার মধ্যে রয়েছে বিহার বিধানসভা, বিহার বিধান পরিষদ, লোকসভা এবং এখন রাজ্যসভা।

সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই কুমার বিহার বিধান পরিষদের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন।

বিধান পরিষদের সদস্য (এমএলসি) সঞ্জয় গান্ধী পরিষদের চেয়ারম্যান অবধেশ নারায়ণ সিং-এর কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও গতিপ্রকৃতি সামলানোর ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতা বিহারে এনডিএ-র ক্ষমতা অটুট রাখার পেছনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

নেতৃত্বের এই প্রত্যাশিত পরিবর্তনকে জোটের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত একটি রূপান্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে। যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব আগামী নির্বাচনগুলোর আগে শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কৌশলের ওপর পড়তে পারে।

বিহারের পালাবদলের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনডিএ
নীতীশ কুমারের পদত্যাগ বিহারের রাজনীতিতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তের সূচনা করেছে। যেখানে এনডিএ তাদের নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নেতৃত্বের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দলের শীর্ষনেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরেও শাসনব্যবস্থার অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ ও রূপরেখা প্রণয়নের ক্ষেত্রে কুমার তাঁর পথপ্রদর্শকের ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন।