আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোজা ঘরে ঢুকে প্রতিবেশীকে খুন৷ সাতসকালে নয়, একেবারে ভরা বিকেলে ঘরে ঢুকে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। গত বুধবার বেঙ্গালুরুর নেলামঙ্গলায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। জানাজানি হতেই আতঙ্ক এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম শোভা (৬৯)। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে শিবকুমার (৩৬) নামে এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে লুঠ হওয়া প্রায় ১০০ গ্রাম সোনার গয়না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেটে বিদি এলাকার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধা দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তাঁর পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্বামীর সেবা করে আসছিলেন। তাঁদের কোনও সন্তান নেই। গত বুধবার বিকেল ৪টে নাগাদ বৃদ্ধা যখন ঘরে ফেরেন, ঠিক তখনই জল খাওয়ার অছিলায় বাড়িতে ঢোকে প্রতিবেশী শিবকুমার। বৃদ্ধার শরীরের সোনার গয়না দেখে সে চড়াও হয়। বাধা দিতে গেলে প্রথমে ছুরি দিয়ে আঘাত এবং পরে শ্বাসরোধ করে বৃদ্ধাকে খুন করে সে গয়না নিয়ে চম্পট দেয়।
নেলামঙ্গলা টাউন থানার পুলিশ আধিকারিক ভরত গৌড়া জানিয়েছেন, অভিযুক্ত যুবক দেনার দায়ে জর্জরিত ছিল। সেই দেনা মেটাতেই সে এই চুরির ছক কষেছিল। বৃদ্ধা একা রয়েছেন বুঝে সে হামলা চালায়। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ ঘাতককে ধরে ফেলে। পাশাপাশি অভিযুক্ত এর আগে কখনও এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অন্যদিকে, স্রেফ সন্দেহের বশে ভয়াবহ পরিণতি প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে। ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু হল এক মানসিক ভারসাম্যহীন প্রৌঢ়ের। মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে, চাতরা জেলায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।
পুলিশের দাবি, এটি স্পষ্টতই 'মব লিঞ্চিং' বা গণপিটুনির ঘটনা। গত রবিবার রাতে চাতরার পিপারওয়ার থানা এলাকায় বছর পঁয়তাল্লিশের এক প্রৌঢ়কে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে রাঁচীর রিমস হাসপাতালে ভর্তি করালে সোমবার সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে নিহতের নাম রামবালি রাজওয়ার।
মৃতের ভাই ভুবনেশ্বর রাজওয়ার জানান, তাঁর দাদা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বাড়ি থেকেই কাউকে না বলে তিনি বেরিয়ে পড়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ভুল বুঝে নৃশংসভাবে মারধর করে। পুলিশ এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
অন্যদিকে, বোকারো জেলায় উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ছয় মহিলাকেও ছেলেধরা সন্দেহে আক্রমণ করে উত্তেজিত জনতা। পুলিশ সময়মতো পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করায় বড়সড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। গুজব রুখতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে ওই এলাকাগুলিতে।
















