আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে মেডিক্যাল স্নাতকোত্তর আসনের ঘাটতি মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। নিট পিজি ২০২৫ পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণকারী পারসেন্টাইল অর্থাৎ নম্বরে শতকরা হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। এর ফলে বহু পরীক্ষার্থী নতুন বছর ২০২৬-এ তৃতীয় রাউন্ড কাউন্সেলিংয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ন্যাশনাল বোর্ড অব এক্সামিনেশনস ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এনবিইএমএস) সোমবার এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এনবিইএমএস সূত্রে জানা গেছে, নিট পিজি-র ফলাফল প্রকাশিত হয় ১৯ আগস্ট ২০২৫। তবে একাধিক রাউন্ড কাউন্সেলিংয়ের পরেও বিপুল সংখ্যক স্নাতকোত্তর আসন ফাঁকা থেকে যাওয়ায় সরকার যোগ্যতার মানদণ্ড পুনর্বিবেচনা করে। সেই প্রেক্ষিতেই ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় রাউন্ড কাউন্সেলিংয়ের আগে পারসেন্টাইল কমানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জেনারেল ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে যোগ্যতার সীমা ৫০ পারসেন্টাইল থেকে কমিয়ে ৭ পারসেন্টাইল করা হয়েছে। এর ফলে কাট-অফ স্কোর ২৭৬ থেকে নেমে এসেছে ১০৩-এ। অসংরক্ষিত শ্রেণিভুক্ত বিশেষ ভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে কাট অফ ৪৫ থেকে ৫ পার্সেন্টাইল করা হবে। তাঁদের কাট অফ স্কোর হবে ৯০। সংরক্ষিত শ্রেণিভুক্ত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জন্য কাট অফ স্কোর ৪০ থেকে কমিয়ে ০ পার্সেন্টাইল করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন -৪০ কাট অফ স্কোর থাকলে পড়ুয়ারাও ভর্তি হতে পারবেন।

এই সিদ্ধান্তে বহু পরীক্ষার্থী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন প্রস্তুতির পর সামান্য ব্যবধানে যোগ্যতা থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। তবে অন্যদিকে, কিছু চিকিৎসক সংগঠন ও সিনিয়র রেসিডেন্টদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, এতটা কম কাট-অফ ভবিষ্যতে মেডিক্যাল শিক্ষার মানে প্রভাব ফেলতে পারে।

এনবিইএমএস-এর তরফে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে আসন পূরণ এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় চিকিৎসকের ঘাটতি মেটানোর স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেছে যে, কাউন্সেলিং ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় অন্যান্য যোগ্যতা ও নিয়মাবলি অপরিবর্তিত থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে চলতি শিক্ষাবর্ষে হাজার হাজার স্নাতকোত্তর আসন পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কিছুটা হলেও শক্তিশালী করতে পারে। 

উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রশ্ন উঠছে হবু চিকিৎসক নির্বাচনের ক্ষেত্রে যদি পরীক্ষা বা তার নম্বরের মান কমিয়ে ঘাটতি পূরণ কিংবা শূন্যস্থান পূরণের পথে হাটে কেন্দ্র, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থার মান সত্যি কথাটা উন্নত থাকবে?

চলতি বছর ২.৪ লক্ষ পরীক্ষার্থী নিট পিজি উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। স্নাতকোত্তরে মোট আসন ছিল ৬৫,০০০ থেকে ৭০,০০০। কিন্তু দেখা গিয়েছে, দ্বিতীয় রাউন্ডের পরও প্রায় ৯,০০০ আসন ফাঁকা রয়ে গিয়েছে। অগস্টে ফল প্রকাশের পরে কাউন্সেলিং শুরু হয় সেপ্টেম্বরে। কিন্তু কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সব আসনে পড়ুয়া ভর্তি না হওয়ায় ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে চিঠি লিখে বিষয়টি জানায়। তারপরেই এই সিদ্ধান্ত।