আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের বিচার ব্যাবস্থায় দুর্নীতি বিষয়ে জানবে ছাত্ররা। অষ্টম শ্রেণির, জাতীয় শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদের (NCERT) নতুন পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি’র উল্লেখ । সেই উল্লেখ ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানান ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। এই পদক্ষেপ বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে “পরিকল্পিত ও সুদৃঢ় আক্রমণ” বলে দাবী করেন তিনি। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, চরম বিতর্কের মাঝেই সিদ্ধান্ত বদল। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, NCERT অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক প্রত্যাহার করে নিয়েছে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি) সদ্য প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞানের একটি পাঠ্যপুস্তক বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে, যেখানে বিচার বিভাগের দুর্নীতির উল্লেখ রয়েছে। ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড –পার্ট ২’ শিরোনামের বইটি এই সপ্তাহে সোমবার প্রকাশিত হয়েছিল কিন্তু একদিন পরেই বিক্রি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র সংবাদপত্রকে জানিয়েছে।

দিল্লির এনসিইআরটি ক্যাম্পাসের প্রকাশনা বিভাগের কাউন্টারের কর্মীরা জানিয়েছেন যে, এই সপ্তাহের শুরুতে পাওয়া বইটি আর বিক্রি হচ্ছে না, সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর তেমনটাই। 

 

২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির নতুন সমাজ বিজ্ঞানের (Social Science) পাঠ্য বইয়ে দেশীয় বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতির প্রসঙ্গ যুক্ত করা হয়। 'দ্য রোল অফ দ্য জুডিশিয়ারি ইন আওয়ার সোসাইটি' শীর্ষক এই নতুন অধ্যায়টিতে বিপুল সংখ্যক নিষ্পত্তি না-হওয়া মামলার মতো নানান প্রসঙ্গের পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার দুর্নীতিজনিত প্রতিকূলতার উল্লেখও পাওয়া যায়। শুধু দেশের বিচার ব্যবস্থার কাঠামো ও কার্যপ্রণালী নয়, ছাত্র-ছাত্রীরা জানবে এবারে দুর্নীতি নিয়েও। পাঠ্য বইয়ে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের ২০২৫ সালের জুলাই মাসে করা একটি উদ্ধৃতির উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বিচার ব্যবস্থার অভ্যন্তরে দুর্নীতি ও অসৎ আচরণ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান, নিষ্পত্তিমূলক ও স্বচ্ছ পদক্ষেপই আস্থা পুনর্গঠনের পথ।” 

 

এই বিষয়ে বর্তমান প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে, “আমি জানি কীভাবে এর মোকাবিলা করতে হয়। এটি একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ বলেই মনে হচ্ছে। আমি কোনও ভাবেই বিচারব্যবস্থার মানহানি হতে দেব না।” পাশাপাশি তিনি জানান, সিদ্ধান্তটি স্বপ্রণোদিতভাবে (suo motu) গ্রহণ করা হয়েছে। 

 

আদালতে সিনিয়র বিচারপতি কপিল সিব্বলও এই বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, স্কুলের পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি’ অন্তর্ভুক্ত করা “অত্যন্ত বিরক্তিকর” ঘটনা। তাঁর মতে, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এমন বিষয় পড়ানো বিচারবিভাগের মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। অভিষেক সিংভির যুক্তিতে, একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই আলাদা করে চিহ্নিত করা হয়েছে, অথচ রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী বা আমলাদের দুর্নীতির কোনও উল্লেখ নেই। এর ফলে, একতরফা বার্তা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।