আজকাল ওয়েবডেস্ক: নৌবাহিনী পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় একটি নতুন ঘাঁটি স্থাপন করবে। উত্তর বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে। তবে, শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে যে, মূলত বাংলাদেশ ও চীনকে নজরে রাখতেই হলদিয়ায় নৌসেনা ঘাঁটি তৈরি করা হচ্ছে।
এখনও নামকরণ না হওয়া হলদিয়ার নৌঘাঁটিটি একটি 'ডিট্যাচমেন্ট' হিসেবে কাজ করবে। এখানে মূলত ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্র্যাফ্ট ও নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্র্যাফ্ট -এর মতো ছোট যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন থাকবে। প্রাথমিক পর্যায়ে জেটি নির্মাণ-সহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির কাজ হবে।
২০২৪ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল নৌবাহিনীর জন্য ১২০টি এফআইসি এবং ৩১টি এনডব্লুজেএফএসি কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছিল। প্রায় ১০০ টন ওজনের এই দ্রুতগতির নৌযানগুলি ঘণ্টায় প্রায় ৪৫ নট (নটিক্যাল মাইল) বা ৮৩ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। মেশিনগানে সজ্জিত এই নৌযানগুলিতে ১০ থেকে ১২ জন কর্মী বহন করা যায় এবং উপকূলীয় নজরদারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিরাপত্তা অভিযানে এগুলি ব্যবহার করা হয়। এই নৌযানগুলো হলদিয়ার গাঁটিতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্ভুল আঘাত এবং নজরদারির জন্য সিআরএন-৯১ বন্দুক এবং সম্ভবত নাগস্ত্র সিস্টেমের মতো চলমান যুদ্ধাস্ত্রও থাকবে।
নৌঘাঁটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে উত্তর বঙ্গোপসাগরে এই পদক্ষেপটি বেশ কয়েকটি কারণে হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি-র (PLAN) গতিবিধি বদ্ধি, সামুদ্রিক অনুপ্রবেশ নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ এবং সমুদ্রপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের ঘটনা।
ভারত-বাংলাদেশ উপকূলরেখার কাছে অগভীর জল এবং ঘন সামুদ্রিক ট্র্যাফিক, জলসীমান্ত এলাকায় প্রতিরোধ এবং বাধা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে কার্যকর হবে হলদিয়ার নৌঘাঁটি।
ভারত মহাসাগরে চীনা নৌবাহিনীর কার্যকলাপ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বেজিংয়ের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অংশীদারিত্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও পরিকাঠামোগত সম্পর্ক রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে হলদিয়া ঘাঁটিটির গুরুত্ব অপরিসীম।
১০০ জন নৌসেনা মোতায়েন করা হবে
নতুন ঘাঁটিটি তুলনামূলকভাবে ছোট হবে, যার আনুমানিক শক্তি প্রায় ১০০ জন অফিসার এবং নাবিক। যা ইঙ্গিত দেয় যে, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কমান্ড হবে না। কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঘাঁটি দিয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে যাওয়া যাবে এবং হুগলি নদীর মাধ্যমে সময়সাপেক্ষ ট্রানজিট এড়িয়ে চলার কৌশলগত সুবিধা পাওয়া যাবে।
ইতিমধ্যেই পূর্ব উপকূলে ভারতীয় নৌবাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের সদর দফতর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে কৌশলগত ঘাঁটি রয়েছে। তবে হলদিয়ার জন্য বরাদ্দ জমি দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে আটকে থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি। সম্প্রতি সেই বরাদ্দ সংক্রান্ত জট কেটে গিয়েছে। তাই নৌবাহিনী দ্রুত নির্মাণকাজ করতে উদ্যোগী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপথ রক্ষা, আঞ্চলিক উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ এবং এই অঞ্চলে প্রাথমিক নিরাপত্তা প্রদানকারী হিসেবে ভারতের ভূমিকা জোরদার করার জন্য এই ধরনের মনোভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
