আজকাল ওয়েবডেস্ক: তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস-এর নাসিক শাখায় ধুন্ধুমার কাণ্ড। এইচআরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ জানাতে বাধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সংস্থার অপারেশনস ম্যানেজার তথা এইচআর অশ্বিনী চেইনানি অভিযোগকারী মহিলা কর্মীকে সাফ জানান, 'কর্মক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেই থাকে'। শুধু তাই নয়, অশ্বিনী অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ মহিলার৷ 

নাসিকের ওই বিপিও ইউনিটে যৌন নির্যাতন এবং জোর করে ধর্ম পরিবর্তনের চেষ্টার অভিযোগে আপাতত নয়টি অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় অশ্বিনী-সহ মোট সাতজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ছ’জন পুরুষ কর্মী। নিদা খান নামে অপর এক মহিলা কর্মী বর্তমানে পলাতক। অশ্বিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ থাকলেও, নিদার নাম জড়িয়েছে ধর্মীয় হেনস্থার একটি মামলায়।

পুলিশ কমিশনার জানান, অভিযুক্ত সাত পুরুষ কর্মী- দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তর, রাজা মেমন, শাহরুখ কুরেশি, শফি শেখ, আসিফ আফতাব আনসার এবং শাহরুখ শেখ- প্রায় প্রতিটি মামলাতেই সহ-অভিযুক্ত। 

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অফিসের ভেতরেই এই অভিযুক্তরা একটি গোষ্ঠী বা সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে সক্রিয় ছিল। শুধু তাই নয়, এমনকী এক পুরুষ সহকর্মীও তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় হেনস্থা ও ধর্ম পরিবর্তনের চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন।

ঘটনার জেরে পুলিশ কমিশনার সন্দীপ কর্ণিক বলেন, “নাসিকে মোট নয়টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত নয়জনই টিম লিডারের মতো প্রভাবশালী পদে রয়েছেন। নিজেদের পদের অপব্যবহার করে সহকর্মীদের ওপর তাঁরা মানসিক ও যৌন হেনস্থা চালাতেন বলে অভিযোগ।” ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। অভিযোগকারী আট মহিলা কর্মীর দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে হেনস্থা চললেও এইচআর বিভাগ তাতে বিন্দুমাত্র কান দেয়নি।

অন্যদিকে, তদন্ত শুরু হতেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে টিসিএস কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত কর্মীদের ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। সোমবার টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরণ এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বেদনাদায়ক’ বলে মন্তব্য করেছেন। সংস্থার চিফ অপারেটিং অফিসার আরতি সুব্রহ্মণ্যমের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, জাতীয় মহিলা কমিশনও ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ দল পাঠিয়েছে।