আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়াতে চলা যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই ভারতের ইথানল মিশ্রণ নীতির সাফল্যকে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার উত্তরপ্রদেশের জেওরে নয়ডা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই নীতির ফলে ভারত বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে পেরেছে।


প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের আখচাষিদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “ইথানল মিশ্রণ না থাকলে আমাদের বিদেশ থেকে আরও ৪.৫ কোটি ব্যারেল তেল আমদানি করতে হত।” তাঁর মতে, কৃষকদের অবদানেই দেশ বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়েছে।


ভারতের ইথানল ব্লেন্ডিং প্রোগ্রাম মূলত তিনটি লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে— আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা। গত কয়েক বছরে এই প্রকল্প উল্লেখযোগ্য গতি পেয়েছে। বিশেষ করে মোদি সরকারের আমলে এই উদ্যোগ আরও জোরদার হয়েছে।


উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারত নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগেই পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য পূরণ করেছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল, অর্থাৎ E20 সরবরাহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করা।


পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমানোর ফলে ভারত প্রায় ১.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সাশ্রয় ভারতের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কট ঘিরে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এটি একটি বিরাট সঙ্কট, কিন্তু আমাদের ভারতের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। ধৈর্য ও সংহতির মাধ্যমে আমাদের এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।”


প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে দেশে জ্বালানির কোনও ঘাটতি না হয়। ভারত যেহেতু এখনও অনেকাংশে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথানল মিশ্রণ নীতি শুধু জ্বালানি নিরাপত্তা নয়, কৃষকদের আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আখচাষের চাহিদা বাড়ার ফলে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

 


সব মিলিয়ে, এই অস্থিরতার মাঝেও ইথানল নীতিকে হাতিয়ার করে ভারত তার জ্বালানি কৌশলকে আরও শক্তিশালী করার পথে এগোচ্ছে— এমনটাই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।