আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ২-এ নামাজ পড়া ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। কর্ণাটক বিজেপি ঘটনাটিকে ‘উচ্চ নিরাপত্তা জোনে অনুমতিহীন ধর্মীয় কার্যকলাপ’ বলে দাবি করে রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার কাছে কড়া ব্যাখ্যা চেয়েছে।

রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র বিজয় প্রসাদ রবিবার রাতেই এক্স-এ একটি ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, “উচ্চ নিরাপত্তা জোনে নামাজ পড়ার জন্য কি ওই ব্যক্তিরা পূর্বানুমতি নিয়েছিলেন? যখন আরএসএস যথাযথ অনুমতি নিয়ে পাঠ সঞ্চালন করে, তখন সরকার আপত্তি জানায়— অথচ এই ঘটনায় তারা চুপ কেন? এটি কি নিরাপত্তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয় নয়?”

সোমবার সংবাদমাধ্যমকে  দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রসাদ আবারও বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও আইটি মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গের  কাছে জানতে চাই— তারা কি এই ঘটনার অনুমোদন দিয়েছেন? এমন একটি সংবেদনশীল জায়গায় এই কার্যকলাপের অনুমতি কীভাবে দেওয়া হল? কেন এই দ্বৈত মানদণ্ড?”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরের টার্মিনাল ২-এ কঠোর নিরাপত্তা থাকে। তবুও পুলিশ বা নিরাপত্তাকর্মীরা কাউকে বাধা দেয়নি। এটি প্রমাণ করে কংগ্রেস সরকার এক বিশেষ সম্প্রদায়কে তুষ্ট করার রাজনীতি করছে।”

এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া রোববার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে, সরকার যে নির্দেশিকা জারি করেছে— যাতে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে জনসমক্ষে অনুষ্ঠান করার আগে অনুমতি নিতে বলা হয়েছে— তা নির্দিষ্টভাবে আরএসএসকে লক্ষ্য করে নয়। তিনি বলেন, “আমরা কোথাও আরএসএসের নাম উল্লেখ করিনি। যেকোনো সংগঠনকে জনসমক্ষে কর্মসূচি করার আগে অনুমতি নিতে হবে। কেউ যদি ধরে নেয় এটা আরএসএস-এর বিরুদ্ধে, আমরা কী করব?”

অন্যদিকে, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত রবিবার বলেন, সংগঠনটি কোনো নথিভুক্ত  সংস্থা নয়, বরং এটি “একদল মানুষের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বীকৃত সংস্থা।” তার এই মন্তব্য কংগ্রেসের সেই নেতাদের উদ্দেশে তীর্যক মন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, যারা সম্প্রতি আরএসএসের আইনগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

রাজ্য রাজনীতিতে এখন এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি অভিযোগ করছে— কংগ্রেস সরকার নিরাপত্তা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নামে পক্ষপাতমূলক রাজনীতি করছে। অন্যদিকে, সরকারপক্ষ বলছে, ঘটনাটি অতিরঞ্জিত করে বিজেপি রাজ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও  আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রোটোকল ও অনুমতির প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সম্ভাবনার কথা সূত্র মারফত জানা গেছে। ঘটনাটি যতই এগোচ্ছে, ততই কর্ণাটকের রাজনৈতিক অঙ্গনে ধর্ম ও নিরাপত্তা ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে।