আজকাল ওয়েবডেস্ক: এতদিন দেশজুড়ে কোথাও ছিল গরমের দাবদাহ, আবার কোথাও ঝোড়ো বৃষ্টি। দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় ধীরে ধীরে দেশের অধিকাংশ শহরেই প্রবেশ করেছে বর্ষা। তবে দিনভর বৃষ্টিতেও কমছে না তাপমাত্রা। বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে গরম অনুভূত হচ্ছে বেশি পরিমাণে। জুন মাসেই দিল্লির 'হিট ইনডেক্স' ছুঁয়েছিল রেকর্ড ৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, দিল্লির জামা মসজিদ মেট্রো স্টেশনের বাইরের অস্থায়ী 'কুলিং জোন'-এ এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। হকার, দিনমজুর থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলেই একটু ঠান্ডা হাওয়া আর জলের খোঁজে ভিড় জমাচ্ছেন।

 

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের শহরগুলিতে এখন শুধু দিনের তাপমাত্রা নয়, বরং রাতেও তীব্র গরম এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

জলবায়ু সংস্থা 'ক্লাইমেট সেন্ট্রাল'-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে ভারতে আর্দ্রতাজনিত গরমের সময়কাল ১০১ থেকে বেড়ে বছরে ১৪১ দিনে পৌঁছেছে। মূলত এর মূলে রয়েছে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প এবং দ্রুত নগরায়নের ফলে তৈরি হওয়া 'আর্বান হিট আইল্যান্ড’। যার প্রভাবে রাতের বেলাও তাপমাত্রা কমছে না। ফলে পরের দিনও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মত, এতদিন গরম কমানোর চেনা সমাধান হিসাবে 'কুল রূফ' বা সবুজায়নের কথা ভাবা হত। তবে এখন এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আহমেদাবাদের সেপ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজন রাওয়াল এবং অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির রাধিকা খোসলার মতে, কুল রূফ কেবল ছাদের তাপমাত্রা কমাতে পারে। কিন্তু ঘরের ভেতরের আর্দ্রতা বা দেওয়াল থেকে যে তাপ আসছে, তা কমাতে পারে না। অন্যদিকে, অতিরিক্ত আর্দ্র অঞ্চলে গাছপালা অনেক সময় বাতাস চলাচলে বাধা দেয়। জলীয় বাষ্প মাটির কাছেই আটকে রাখে যা অস্বস্তি ও তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।

 

এ জন্য সমাধান হল, এখন এমন বাড়ি তৈরির নকশা বানাতে হবে, যা প্রাকৃতিকভাবেই হাওয়া চলাচলে সাহায্য করবে। পাশাপাশি সাহায্য নিতে হবে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব 'অ্যাক্টিভ কুলিং' বা এয়ার কন্ডিশনার ব্যবস্থারও।

 

পরিস্থিতির বুঝে দেশের নানা শহরে এখন আরও আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত 'হিট অ্যাকশন প্ল্যান' তৈরি করা হচ্ছে। থানে-তে ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ বুঝে ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। চেন্নাইও তাদের মাস্টার প্ল্যানে এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ করেছে ভুবনেশ্বর। খুব শীঘ্রই তারা একটি 'ক্লাইমেট-রিস্ক ড্যাশবোর্ড' চালু করবে। উপগ্রহ চিত্র ও স্থানীয় সেন্সরের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে ওই ওপেন-সোর্স ড্যাশবোর্ডটি। যা বাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল বা বাস স্ট্যান্ডের গরম এবং আর্দ্রতার নিখুঁত হিসাব দেবে। এই আধুনিক প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে ওড়িশার বাকি পুরসভাতেও এটি ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।