আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে দেশে ফের সক্রিয় হতে চলেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। জুলাই মাসের বড় অংশজুড়ে বৃষ্টির দেখা না মেলায় দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া ছিল। তবে এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে চলেছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই বর্ষা নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে পূর্ব, মধ্য এবং উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় সক্রিয় হবে।


আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। এরপর ধীরে ধীরে পূর্ব ভারত, মধ্য ভারত এবং গাঙ্গেয় সমভূমির বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে অঞ্চলগুলি তীব্র গরম ও বৃষ্টির অভাবে ভুগছিল, সেখানে এই বৃষ্টি অনেকটাই স্বস্তি এনে দিতে পারে।


কেন ফিরছে বর্ষা?
বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন নিম্নচাপ এলাকা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই নিম্নচাপই বর্ষাকে আবার সক্রিয় করার মূল কারণ হবে।


নিম্নচাপ তৈরি হলে চারপাশের আর্দ্র বায়ু দ্রুত সেই অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করে এবং মেঘ তৈরি হয়ে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এই নিম্নচাপ ধীরে ধীরে পূর্ব উপকূল পেরিয়ে মধ্য ভারতের দিকে অগ্রসর হলে মৌসুমি অক্ষরেখা আবার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসবে।


জুলাইয়ে কেন কমেছিল বৃষ্টি?
আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, দেশ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে 'ব্রেক মনসুন' পর্যায়ের মধ্যে ছিল। এই সময় মৌসুমি অক্ষরেখা উত্তর দিকে হিমালয়ের পাদদেশে সরে যায়। ফলে পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টি হলেও সমতল অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়।


এছাড়া জুলাই মাসে বঙ্গোপসাগরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিম্নচাপ তৈরি হয়নি। আরব সাগর থেকেও আর্দ্র বায়ুর প্রবাহ দুর্বল ছিল। একই সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে শুষ্ক বায়ুর আধিপত্য থাকায় মেঘ তৈরি বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। এর ফলেই দেশের মোট বৃষ্টিপাতে প্রায় ২৪ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে যেখানে এই সময়ে ৩২৩.১ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা, সেখানে হয়েছে মাত্র ২৪৪.৬ মিলিমিটার।


কেন এত গরম অনুভূত হচ্ছিল?
বৃষ্টি না হলেও বাতাসে আর্দ্রতা যথেষ্ট ছিল। প্রবল রোদে মাটি দ্রুত উত্তপ্ত হয়েছে, কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় শরীরের ঘাম সহজে শুকায়নি। ফলে অনেক শহরে অনুভূত তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি পৌঁছে যায়।


আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী সপ্তাহের বৃষ্টি সাময়িক স্বস্তি দিলেও মৌসুমি বৃষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক ও বিস্তৃত বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। তাই চলতি বর্ষা মরসুম শেষ পর্যন্ত কেমন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে আগস্ট মাসের বৃষ্টির উপর।