আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাতপাক সারা। এমনকী সম্পন্ন বিয়ের সব আচার-অনুষ্ঠানও। শুধু 'বিদায়' বাকি। এদিকে বিদায় পর্বের ঠিক শেষ মুহূর্তেই উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকির এক বিয়েবাড়িতে শুরু হল তুমুল অশান্তি। প্রকাশ্যে এল এক বিস্ফোরক তথ্য- স্বয়ং পাত্রই আসলে 'রূপান্তরিত'!
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে কোঠি থানা এলাকার ওই গ্রামে ধুমধাম করে বরযাত্রী এসেছিল। রাতভর বাসর রাত, হাসি-আনন্দের মধ্যে দিয়ে বিয়ের সব নিয়ম-কানুনই ঠিকঠাক পালন করা হয়। কিন্তু শনিবার সকালে বিদায়ের ঠিক আগে হঠাৎই ছন্দপতন ঘটে। কনেপক্ষের কাছে খবর পৌঁছায় বরের আসল পরিচয় নিয়ে।
জোর শোরগোল শুরু হতেই গা-ঢাকা দেন পাত্রপক্ষের অধিকাংশ অতিথি ও আত্মীয়। তবে পাত্র এবং তাঁর মাকে আটকে দেন কনের বাড়ির লোকেরা। শুরু হয় চরম বচসা। ভিড় জমান গ্রামবাসীরাও। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এলাকায় উত্তেজনা বজায় থাকে।
জানা গিয়েছে, বিদায়ের ঠিক আগে একদল 'কিন্নড়' আশীর্বাদ করতে ওই বিয়েবাড়িতে এসেছিলেন। তাঁরাই পাত্রকে দেখে চিনে ফেলেন। এর পরেই সব জানাজানি হয়ে যায় এবং বিয়ে বাতিল করে দেওয়া হয়। সত্য ফাঁস হতেই ধুন্ধুমার কাণ্ড৷ কনেপক্ষ বিষয়টি যাচাই করতে চাইলে পাত্র তা অস্বীকার করেন। অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং নিজেদের মান বাঁচাতে কনেপক্ষকে ২৩ হাজার টাকা দেওয়ারও প্রস্তাব দেয় বরের পরিবার।
খবর পেয়ে গ্রামে পৌঁছায় পুলিশ। দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন আধিকারিকরা। তবে পুলিশ জানিয়েছে, কোনও পক্ষই এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তাই আইনি কোনও পদক্ষেপও করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ৷
অন্যদিকে, খাস আদালত কক্ষেই বিচারককে খুনের চেষ্টা! রায়ে পছন্দ না হওয়ায় বিচারকের দিকে সরাসরি কাটারি ছুড়ে মারলেন এক ব্যক্তি। সোমবার তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলার শ্রীবিল্লিুপুত্তুর ফ্যামিলি কোর্টে এই নজিরবিহীন ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অল্পের জন্য প্রাণরক্ষা পেয়েছেন বিচারক।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম বালামুরুগান। স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের মামলা চলছিল। ওই দিন ফ্যামিলি কোর্টের স্থায়ী বিচারক না থাকায় মামলার শুনানি করছিলেন পিওসিআর আদালতের বিচারক সুধাকর। তিনি রায় ঘোষণা করতেই মেজাজ হারান বালামুরুগান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজের সঙ্গে আনা একটি কাটারি তিনি বিচারকের আসন লক্ষ্য করে ছুড়ে মারেন।
অস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বিচারক সুধাকর অক্ষত আছেন। তবে এই ঘটনায় আদালত চত্বরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ তড়িঘড়ি এসে অভিযুক্তকে পাকড়াও করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন। আদালত কক্ষের নিরাপত্তা এড়িয়ে কীভাবে তিনি অস্ত্র নিয়ে ঢুকলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
