আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা দ্রুত আধুনিকীকরণের দিকে এগোচ্ছে। সেই আধুনিকতারই এক বড় নাম ‘স্মার্ট মিটার’।
2
19
পুরনো মিটারের দিন ফুরিয়ে এখন জায়গা করে নিচ্ছে এই নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তি। এর মূল বিশেষত্ব হলো, এটি রিয়েল-টাইমে (অর্থাৎ প্রতি মুহূর্তে) আপনার বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসেব রাখে এবং সরাসরি সেই তথ্য পাঠিয়ে দেয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার সদর দপ্তরে।
3
19
প্রযুক্তির এই নতুন পিঠ যেমন ঝকঝকে, তেমনই এর অপর পিঠ নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভও কম নয়।
4
19
সহজ কথায়, স্মার্ট মিটার হলো বিদ্যুতের হিসেব রাখার এক আধুনিক বৈদ্যুতিন যন্ত্র। প্রিপেইড স্মার্ট মিটারের ক্ষেত্রে নিয়মটা অনেকটা মোবাইল রিচার্জের মতো- আগে টাকা দিন, তবেই মিলবে বিদ্যুৎ।
5
19
টাকা ফুরিয়ে গেলেই কিন্তু ঘর অন্ধকার! এই ব্যবস্থায় বাড়িতে একটি মিটার এবং একটি ডিসপ্লে ইউনিট থাকে। ফলে কখন কত বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, তা চোখের সামনেই দেখা যায়।
6
19
মিটারের ভেতরে থাকা সেন্সর প্রতি মুহূর্তে ভোল্টেজ, কারেন্ট ও পাওয়ার ফ্যাক্টরের নিখুঁত পরিমাপ করে। এই সমস্ত তথ্য তারযুক্ত বা ওয়্যারলেস প্রযুক্তির মাধ্যমে নিমেষের মধ্যে চলে যায় গ্রিড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে।
7
19
বিদ্যুৎ সংস্থার সার্ভারে সেই তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিল তৈরি হয় এবং গ্রাহকদের ব্যবহারের একটি রিপোর্টও প্রস্তুত করা হয়।
8
19
স্মার্ট মিটারের হাত ধরে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বেশ কিছু ইতিবাচক বদল এসেছে। প্রতি মুহূর্তে কতটা বিদ্যুৎ পুড়ছে তা দেখা যায় বলে, কোন যন্ত্রে বেশি বিল আসছে তা সহজেই ধরে ফেলা সম্ভব।
9
19
আগে অনেক সময় বাড়ি বন্ধ থাকলে বা মিটার রিডার না এলে অনুমানের ভিত্তিতে বিল পাঠানো হতো। স্মার্ট মিটারে সেই বালাই নেই, যতটুকু খরচ ততটুকুই বিল।
10
19
মিটার দেখার জন্য বিদ্যুৎ কর্মীদের আর বাড়ি বাড়ি ঘুরতে হবে না। দূর থেকেই রিডিং নেওয়া সম্ভব।
11
19
লাইনে কোনও গোলযোগ বা লোডশেডিং হলে মিটার নিজেই সংস্থাকে সতর্কবার্তা পাঠায়। ফলে দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু করা যায়। খরচের হিসেব লাইভ দেখতে পাওয়ায় গ্রাহকরা নিজেরাই নিজেদের ব্যবহারের রাশ টানতে পারেন।
12
19
এর অসুবিধাও রয়েছে। বহু গ্রাহকেরই অভিযোগ, স্মার্ট মিটার বসার পর থেকেই বিদ্যুতের বিল এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। এনার্জি চার্জের সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ, মিটারের চড়া ভাড়া ও ভ্যাট যুক্ত হওয়ার ফলেই এই বিপত্তি।
13
19
সারাদিন বাড়িতে কখন কত বিদ্যুৎ লাগছে, সেই তথ্য যদি কোনওভাবে হ্যাকারদের হাতে পড়ে, তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বিঘ্নিত হওয়ার বড়সড় ঝুঁকি থাকে।
14
19
বিদেশে এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কিছু কিছু স্মার্ট মিটার আসল খরচের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ পর্যন্ত ভুল ও বেশি রিডিং দেখায়।
15
19
এই মিটার একবার বিকল হলে তা আর সারানো যায় না। গাঁটের কড়ি খরচ করে নতুন মিটার কেনা ছাড়া গতি নেই।
16
19
ইউটিউব থেকে শুরু করে সমাজমাধ্যমেও চলছে জোর চর্চা। সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, "এতে গ্রাহকের কোনও লাভ নেই, সব লাভ বিদ্যুৎ কোম্পানির। প্রিপেইড কার্ডে আগে টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ কিনতে গিয়ে মধ্যবিত্তরা চূড়ান্ত বিপদে পড়ছেন।"
17
19
তবে বিদ্যুৎ কর্তাদের যুক্তি অন্য। যেমন বাংলাদেশের পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন জানিয়েছেন, পোস্টপেইড বিলে প্রতি কিলোওয়াটে ২৫ টাকা করে একটি নির্দিষ্ট ‘ডিমান্ড চার্জ’ থাকে। কেউ যদি ২ কিলোওয়াট নেন, তবে তাঁর ৫০ টাকা চার্জ এমনিই আসবে। স্মার্ট মিটারেও সেই নিয়মই কাজ করছে, আলাদা কিছু নয়।
18
19
প্রযুক্তি হিসেবে স্মার্ট মিটার নিঃসন্দেহে আধুনিক ও সময়োপযোগী। কিন্তু যে কোনও প্রযুক্তির সাফল্য নির্ভর করে তার গ্রহণযোগ্যতার ওপর।
19
19
অতিরিক্ত বিলের বোঝা, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং অস্বচ্ছতার যে সব অভিযোগ গ্রাহকরা তুলছেন, বিদ্যুৎ সংস্থাগুলিকে তা সহানুভূতির সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে।