আজকাল ওয়েবডেস্ক, আগরতলা: গ্রামীণ প্রশাসন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ফের জাতীয় স্বীকৃতি পেল ত্রিপুরা। ন্যাশনাল পঞ্চায়েত অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫-এ এই রাজ্যের তিনটি পঞ্চায়েত প্রতিষ্ঠান মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে। শুক্রবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান ত্রিপুরার পঞ্চায়েতমন্ত্রী কিশোর বর্মন।

 

মন্ত্রী জানান, ‘বেস্ট ডিস্ট্রিক্ট পঞ্চায়েত’ বিভাগে সিপাহীজলা জিলা পরিষদ জাতীয় স্তরে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। পাশাপাশি কাক্ষনবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত ‘হেলদি পঞ্চায়েত’ বিভাগে প্রথম স্থান এবং বেকুছড়া গ্রাম পঞ্চায়েত ‘উইমেন ফ্রেন্ডলি পঞ্চায়েত’ বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

 

এই সাফল্যের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক পুরস্কারও পেয়েছে। সিপাহীজলা জিলা পরিষদ পেয়েছে ৫ কোটি টাকা, কাক্ষনবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত ১ কোটি টাকা এবং বেকুছড়া গ্রাম পঞ্চায়েত ২৫ লক্ষ টাকা। এই অর্থ স্থানীয় উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

 

সাংবাদিক সম্মেলনে কিশোর বর্মন বলেন, বিকেন্দ্রীকরণ, সুশাসন, অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো শক্তিশালীকরণের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা ধারাবাহিকভাবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করছে। জাতীয় পঞ্চায়েত পুরস্কারে রাজ্যের সাফল্য সেই প্রচেষ্টারই স্বীকৃতি।

 

তিনি জানান, গত বছর ত্রিপুরা সাতটি জাতীয় পঞ্চায়েত পুরস্কার অর্জন করে প্রায় ১০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা পেয়েছিল। চলতি বছরও তিনটি জাতীয় পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে রাজ্য তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।

 

এছাড়া, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বিজয়নগর গ্রাম পঞ্চায়েত জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পুরস্কারে ‘সিলভার অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে। প্রশাসনে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, জবাবদিহিতা এবং দ্রুত জনপরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।

 

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মূল্যায়নে পঞ্চায়েত অ্যাডভান্সমেন্ট ইনডেক্স (PAI) ২.০ একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, নারীর ক্ষমতায়ন, জীবিকা উন্নয়ন এবং জনপরিষেবা প্রদানের মতো বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে পঞ্চায়েতগুলোর কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়।

 

তাঁর দাবি, পিএআই-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে ত্রিপুরার প্রায় ৮০ শতাংশ পঞ্চায়েত ‘ফ্রন্ট রানার’ শ্রেণিতে স্থান পেয়েছে। একইসঙ্গে সিপাহীজলা জেলার যুগলকিশোর নগর ভিলেজ কমিটি দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে।

পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ১০৪টি পঞ্চায়েতকে ‘স্মার্ট পঞ্চায়েত’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি এই সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতেও ত্রিপুরার পঞ্চায়েতগুলো উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনমুখী পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে দেশের সামনে আদর্শ মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা জানিয়েছেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিয়া দাস দত্ত, শেলী ভট্টাচার্য, সুনীল দেববর্মা এবং অনুরাগ সেন প্রমুখ।