আজকাল ওয়েবডেস্কঃ ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় জরুরি সংস্কার এবং বিভিন্ন পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগে দিল্লিতে এক বিশাল ছাত্র বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত এই যুব আন্দোলনে যোগ দিয়ে পড়ুয়াদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুক। এমনটাই জানা গিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে।
আজই দিল্লিতে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র উদ্যোগে এই বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সোনম ওয়াংচুক বলেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে আন্দোলন পছন্দ করি না, কিন্তু দেশের পড়ুয়াদের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়ের স্বার্থে তিনি এখানে আসতে বাধ্য হয়েছেন। আমিও ভারতের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চাই।"
সমাবেশে ওয়াংচুক বলেন, "দেশের মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ এবং আমলাদের সন্তানদের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা উচিত। যাঁরা এই ব্যবস্থার অংশ, তাঁরা যখন সাধারণ নাগরিকদের মতো একই শিক্ষাব্যবস্থার অধীনে পঠনপাঠন করবেন, তখনই দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আসবে।"
বিক্ষোভে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বারবার সোনম ওয়াংচুককে দেশের শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার অনুরোধ জানান। তবে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সমস্ত সম্ভাবনা দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, "রাজনীতিতে আসার কোনও ইচ্ছা আমার নেই। আমি চাই দেশের তরুণ প্রজন্ম নিজেরা দায়িত্ব তুলে নিক।"
আজকের আন্দোলনে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, পড়ুয়াদের মানসিক চাপ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যা-র মতো নানা বিষয় উঠে আসে। মৃত পরীক্ষার্থীদের নাম পড়ে শোনানোর পর উপস্থিত সকলে কিছুক্ষণ নীরবতাও পালন করেন।
এদিন প্রতিবাদ মিছিলে অনেক পরীক্ষার্থীই আরশোলার মুখোশ পরে উপস্থিত হয়েছিল, যা এই আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। আবার অনেকের হাতে ছিল বই, ফুল এবং জাতীয় পতাকা। স্কুল ও কলেজের পড়ুয়াদের পাশাপাশি বহু তরুণ পেশাদার এবং অভিভাবকেরাও এই বিক্ষোভে শামিল হন।
'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার নিট, সিবিএসই, কুয়েট এবং এসএসসি-র মতো বড় বড় পরীক্ষায় হওয়া জালিয়াতি বা দুর্নীতির সমাধান না করে উল্টে আন্দোলনকারীদের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক এবং পোস্ট ডিলিট করতে ব্যস্ত রয়েছে।
অভিজিৎ বলেন, "এটি একটি দীর্ঘ লড়াই। সরকার হয়তো আমাদের পোস্ট মুছে দিতে পারে, কিন্তু এই লড়াইয়ের ময়দান থেকে আমাদের মুছে দিতে পারবে না। এই দেশের ছাত্র ও যুব সমাজকে কেনা সম্ভব নয়।"
তিনি আরও জানান, দিল্লিতে নামার আগে তার মনে গ্রেফতারির ভয় ছিল। কিন্তু দেশের স্বার্থে তিনি যেকোনও ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। এ দিন তিনি আন্দোলনকারীদের পুলিশ কর্মীদের ফুল দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্যও অনুরোধ করেন।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সীমান্ত এলাকা এবং অন্যান্য জায়গায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এ দিন প্রায় হাজারের বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়। তবে কড়া নিরাপত্তা থাকলেও আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, সোনম ওয়াংচুক এই আন্দোলনের প্রতি শুরু থেকেই সংহতি জানিয়ে আসছেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে-কে গ্রেফতার করা হলে তিনি ছয় সপ্তাহের অনশনে বসবেন।















