আজকাল ওয়েবডেস্ক: বয়স মাত্র পাঁচ। তবুও লালসার কোপ থেকে রক্ষা পেল না। বাড়িতে তখন কেউ ছিল না। ৫৭ বছরের প্রৌঢ়, শিশুটিকে , ‘বিস্কুট খাবি? আয়’ বলে ডাকে। সরল মনে প্রৌঢ়ের কাছে শিশুটি। গত বুধবারে সেই প্রৌঢ়ই ধর্ষণ করে শিশুটিকে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম সত্যবান সিং। শিশুটি বাড়িতে একা ছিল। তার বাবা-মা জঙ্গলে গিয়েছিলেন মহুয়া তুলতে। অভিযুক্ত একই পরিবারের, গ্রামেই থাকে। সে জানত শিশুটির বাবা-মা কখন বাড়িতে থাকবেন না। সেই সুযোগটাই নিয়েছিল সে। 

পুলিশের বক্তব্য, সত্যবান শিশুকন্যার বাড়িতে গিয়ে বিস্কুট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়েছিল। শিশু সরল মনে প্রৌঢ়কে ঘরে ডেকে নেয়। আর তারপরেই ঘটে যায় সেই মর্মান্তিক ঘটনা। যখন যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে শিশুটি চিৎকার করে কান্নাকাটি করতে থাকে তখন অভিযুক্ত ভয় পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। 

বাবা-মা বাড়ি ফিরে এসে দেখতে পায় তাঁদের সন্তান ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। মা তাকে জড়িয়ে ধরেন। খানিক পরে যখন সে কিছুটা শান্ত হয় তখন কী ঘটেছে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়। সেই বছর পাঁচেকের সরল জীবন, তখন মাকে বিস্তারে জানায় কী ঘটেছে তার সঙ্গে। পরিবারটি তখন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে সমস্ত ঘটনা জানায়। পঞ্চায়েত প্রধাণ তখন একটি বৈঠক ডাকেন। সেখানে অভিযুক্তও উপস্থিত ছিলেন। কয়েক ঘন্টা ধরে সেই মিটিং চললেও কোনও ফলাফলে পৌঁছনো যায়নি। 

পঞ্চায়েতে কোনও বিচার না পেয়ে শিশুটির মা পুলিশের কাছে যান। একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ গোটা খবর জানতে পেরে দ্রুত তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তকে আটক করে এবং কয়েক ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলটি ভারতীয় পেনাল কোড এবং প্রটেকশন অফ চিলড্রেন ফ্রন সেক্সুয়াল অফেন্স (পক্সো) অ্যাক্ট-এর আওতায় পড়ে। অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়। এখন সে বিচারাধীন। 

শিশুটিকে সুন্দ্রগড় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তী করা হয়। ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রটেকশন ইউনিট এবং চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে এই ঘটনাটির ব্যাপারে বিস্তারে জানানো হয়েছে। সুন্দরগড়ের এসডিপিও সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে চলতি মাসের ১৫ তারিখ। অভিযোগ দায়ের হলে পরে আমরা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করি। তারপর তদন্ত শুরু হয়। শুক্রবার পক্সো অ্যাক্টের আওতায় অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হয়।"