আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোনার প্রতি গভীর ভালবাসা জন্মেছিল শৈশবেই। বর্তমানে ৬৫ বছরের কাছাকাছি বয়সে এসেও সেই প্রেম একটুও ম্লান হয়নি। গুজরাটের আমরেলি জেলার সাভারকুন্ডলা শহরের বাসিন্দা মানভাই বোরিচা বিগত ৪৫ বছর ধরে প্রতিদিন ৩০০ গ্রাম সোনা পরে চলেছেন। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন মানভাই। তবে সোনার প্রতি টান শুরু হয়েছিল ছোটবেলা থেকেই। জানা যায়, মানভাইয়ের সোনার প্রতি এই টান তিনি পেয়েছিলেন তাঁর বাবার থেকে।

পেশায় কৃষক হওয়ার পাশাপাশি ব্ল্যাকস্মিথ ছিলেন তিনি। তাঁর নিজেরও সোনার গয়নার প্রতি শখ ছিল। মানভাইয়ের হাতে সবসময়ই আটটি আঙুলে সোনার আংটি থাকে। যা তিনি কখনও খোলেন না। তাঁর ডান হাতে থাকে একটি মোটা সোনার ব্রেসলেট। তাঁর সোনার সংগ্রহে রয়েছে সিংহ, ময়ূর, ‘ওঁম’ চিহ্ন এবং সূর্যের ছবি আঁকা আংটি ও হীরে বসানো অলঙ্কার। এই সমস্ত গয়না তিনি বানিয়েছেন প্রায় ৪০ বছর আগে। যখন প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল মাত্র ২,৫০০ টাকা। প্রথমে তিনি মাত্র ৫ গ্রাম সোনা দিয়ে শুরু করেছিলেন, এরপর ধীরে ধীরে নিজের সংগ্রহ বাড়িয়েছেন।

১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে সোনার গয়নায় প্রায় ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। বর্তমানে অবসর জীবন কাটালেও মানভাই জমি ও সম্পত্তি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সোনার প্রতি তাঁর ভালোবাসা আজও অটুট। তিনি জানান, গুজরাটের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে সোনা পরার চল বহুদিন ধরেই প্রচলিত। অনেকেই সেখানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনা পরে থাকেন। তবে মানভাইয়ের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত শখ নয়, বরং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে চলে আসা এক ঐতিহ্য।