আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় জনতা পার্টির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়েছে বর্ষীয়ান নেতা নীতিন নবীনের নাম।
জেপি নাড্ডার জায়গায় দলের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন তিনি। বিজেপি সূত্রে খবর, মঙ্গলবারই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হবে।
৪৫ বছর বয়সি নীতিন নবীনের নিয়োগকে বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং নেতৃত্বে প্রজন্মগত পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম এবং উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, নবীনের এই নিয়োগ কংগ্রেসের নেতৃত্ব কাঠামোর সঙ্গে একেবারেই বিপরীত। বর্তমানে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ৮৪ বছর বয়সি প্রবীণ নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে।
নীতিন নবীনের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা বিজেপির একাধিক নেতা তাঁকে পরিশ্রমী, রাজনৈতিকভাবে কৌতূহলী এবং ‘পার্টি ফার্স্ট’ মানসিকতার মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তাঁকে মাটির কাছাকাছি থাকা, সহজলভ্য এবং ‘সমন্বয়’-এর রাজনীতিতে বিশ্বাসী নেতা বলেই মনে করা হয়। অনেকে আবার বলছেন, নীতিন নবীনের সামাজিক পরিচয়ও এই পদ পেতে তাঁকে এগিয়ে রেখেছে।
দলীয় নেতৃত্বের একাংশের মতে বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় সভাপতি ‘শীর্ষ নেতৃত্বের কাজের ধরন ভালভাবে বোঝেন। সীমারেখা অতিক্রম করেন না। পাশাপাশি তিনি প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে চলতে পছন্দ করেন।’
এর ফলে নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে চলা সংগঠনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। ২০২৩ সালে ছত্তিশগড় বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল নীতিন নবীনকে।
সেই সময় কংগ্রেস নেতা ভূপেশ বাঘেলের নেতৃত্বে কংগ্রেস সেখানে শক্ত ভিত গড়ে তুলেছিল এবং অধিকাংশ সমীক্ষা ও এক্সিট পোল কংগ্রেসের জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল।
কিন্তু নবীনের নেতৃত্বে বিজেপি সেই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠনের পুনর্গঠন, বুথ স্তরে সমন্বয় এবং তৃণমূল স্তরে পরিকল্পনাই বিজেপির এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল।
জাতীয় সভাপতি হিসেবে নবীনের দায়িত্বে এই কৌশল আরও বড় পরিসরে প্রয়োগ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, বিশেষত টানা চতুর্থবার লোকসভা জয়ের লক্ষ্যে।
বিহারে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্যের থেকেও ছত্তিশগড়ের প্রচারই নীতিন নবীনকে জাতীয় সভাপতির দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কঠিন রাজনৈতিক দায়িত্ব সামলানোর দক্ষতার প্রমাণ সেখানেই দিয়েছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি, প্রায় তিন দশক পর রাজধানীতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারেও নবীনের অবদান উল্লেখযোগ্য বলে দলীয় সূত্রে দাবি।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে নীতিন নবীনকে দলের নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
