আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের অন্যতম ধনী ও গুরুত্বপূর্ণ পুরসভা ‘বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন’-এর রাশ এ বার যাচ্ছে এক মহিলার হাতে। ১৯৯৫ ব্যাচের আইএএস অফিসার অশ্বিনী ভিড়ে হতে চলেছেন মুম্বই পুরসভার প্রথম মহিলা কমিশনার। বিদায়ী কমিশনার ভূষণ গাগরানির দুই বছরের মেয়াদ আজই শেষ হচ্ছে। তাঁর জায়গাতেই আসছেন অশ্বিনী।

মহারাষ্ট্রের সাংলি জেলার মেয়ে অশ্বিনী ১৯৯৫ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে নবম স্থান অধিকার করেছিলেন। মেয়েদের মধ্যে সে বার তিনিই ছিলেন পয়লা নম্বরে। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর এবং এমবিএ ডিগ্রিধারী অশ্বিনীর প্রশাসনিক কাজ শুরু হয়েছিল কোলহাপুরের অ্যাসিস্ট্যান্ট কালেক্টর হিসেবে। পরে সিন্ধুদুর্গ ও নাগপুরের জেলা পরিষদে কাজ করার সময় জল ব্যবস্থাপনা ও গ্রামীণ উন্নয়নে তাঁর দক্ষতা সকলের নজর কাড়ে।

মুম্বইয়ের প্রশাসনিক মহলে অশ্বিনী পরিচিত তাঁর কাজের জেদ ও দক্ষতার জন্য। ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মুম্বই মেট্রো রেল কর্পোরেশনের এমডি থাকাকালীন কোলাবা-বান্দ্রা-সিপজ লাইন তৈরিতে তিনি প্রধান কারিগরের ভূমিকা পালন করেন। পরিবেশবিদদের আপত্তি অগ্রাহ্য করে ‘মুম্বইয়ের ফুসফুস’ বলে পরিচিত আরে কলোনিতে মেট্রোর কার-শেড তৈরির পক্ষে তাঁর অনড় অবস্থান সেই সময় যথেষ্ট বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। আবার অতিমারির সময় বিএমসি-র অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সামলানোর ক্ষেত্রেও তাঁর প্রশংসা শোনা গিয়েছিল।

সূত্রের খবর, বিএমসি-র এই শীর্ষ পদের জন্য দৌড়ে ছিলেন সঞ্জয় মুখার্জি এবং অসীম গুপ্তের মতো জাঁদরেল আমলারাও। অশ্বিনী বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের অত্যন্ত আস্থাভাজন অফিসার হিসেবে তাঁর দপ্তরে কাজ করছিলেন।

শোনা যাচ্ছে, ফড়নবীস অশ্বিনীকে চাইলেও উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের পছন্দ ছিল অসীম গুপ্ত। শেষমেশ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ‘বর্ষা’য় দীর্ঘ আলোচনার পর অশ্বিনীর নামেই চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ে। বয়সে এগিয়ে থাকা বেশ কিছু অফিসারকে টপকে তাঁর এই নিয়োগ প্রশাসনিক মহলে রীতিমতো আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অশ্বিনীকে এই পদে বসানো মহারাষ্ট্রের শাসক জোট ‘মহাযুতি’-র এক বড় কৌশল। এর আগে রশ্মি শুক্লকে রাজ্য পুলিশের প্রধান এবং সুজাতা সৌনিককে মুখ্য সচিব পদে নিয়োগ করেছিল বিজেপি-শিবসেনা-এনসিপি জোট সরকার।