আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্ত্রী বাপের বাড়ি যেতেই প্রেমিকাকে ঘরে ডেকেছিলেন ব্যক্তি। কিন্তু সেই অভিসারই যে প্রেমিকার জীবনের শেষ দিন হবে, তা কে জানত! বচসা থেকে শুরু করে হাতাহাতি, আর তার পরেই প্রেমিকাকে কুপিয়ে খুন। শুধু তাই নয়, খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করার অভিযোগ উঠল অন্ধ্রপ্রদেশের এক নৌসেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে।

পুলিশ জানিয়েছে, বছর পঁয়ত্রিশের অভিযুক্ত চিন্তাদা রবীন্দ্র বিশাখাপত্তনমের ‘আইএনএস ডেগা’-তে কর্মরত। ২০২১ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ২৯ বছর বয়সি পোলিপল্লি মৌনিকার সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। সেখান থেকেই প্রেমের সম্পর্ক। মাঝে মধ্যেই শহরের বিভিন্ন পার্ক বা সিনেমা হলে দেখা করতেন তাঁরা।

দিন কয়েক আগে রবীন্দ্রর স্ত্রী বিজয়নগরমে নিজের বাপের বাড়িতে যান। সেই সুযোগে গত রবিবার দুপুরে মৌনিকাকে নিজের বাড়িতে ডাকেন রবীন্দ্র। অভিযোগ, সন্ধ্যা নাগাদ দুজনের মধ্যে প্রবল অশান্তি শুরু হয়। রাগের মাথায় মৌনিকাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করেন রবীন্দ্র। এর পর প্রমাণ লোপাটের জন্য প্রেমিকার দেহ টুকরো টুকরো করে কাটেন তিনি। দেহের কিছু অংশ ব্যাগে ভরে নির্জন জায়গায় ফেলে দিয়ে এলেও বাকি অংশ নিজের বাড়ির ফ্রিজেই লুকিয়ে রাখেন।

এর পরেই সোজা থানায় গিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন ওই নৌসেনা কর্মী। রবীন্দ্রর দাবি, মৌনিকা তাঁর কাছ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের সম্পর্কের কথা রবীন্দ্রর স্ত্রীকে জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মাঝেমধ্যেই তাঁকে ব্ল্যাকমেল করতেন যুবতী। এই নিয়েই তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখে শিউরে ওঠার মতো পরিস্থিতি। ফ্রিজের ভিতর এবং ঘরের এদিক-ওদিক পড়ে রয়েছে যুবতীর দেহের খণ্ড খণ্ড অংশ। এখনও পর্যন্ত মৌনিকার কাটা মুণ্ডুর হদিস মেলেনি। পুলিশের অনুমান, সেটি অন্য কোথাও ফেলে দিয়ে এসেছেন রবীন্দ্র। নিখোঁজ দেহাংশের খোঁজে ইতিমধ্যেই বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।

বিশাখাপত্তনমের এই ঘটনা কার্যত ২০২২ সালের দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়ালকর খুনের স্মৃতি উসকে দিয়েছে। সে বারও লিভ-ইন পার্টনার আফতাব পুনাওয়ালা একই ভাবে শ্রদ্ধাকে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে ভরে রেখেছিল।