আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে বিপজ্জনক নর্দমা ও সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিস্কারের কাজ এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। ভারতে নর্দমা ও সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে স্যানিটেশন কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনা একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী এই পরিসংখ্যানটি অত্যন্ত ভয়াবহ । ভারতের 'সাফাই কর্মচারী জাতীয় কমিশন' এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে পরবর্তী কয়েক বছরে গড়ে প্রতি পাঁচ দিনে একজন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নর্দমা বা সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে সারা দেশে মোট ৩১৫ জন স্যানিটেশন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যার অর্থ প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ২ জন।
এই মৃত্যুর প্রধান কারণ হল সেপটিক ট্যাঙ্কের ভেতরে জমে থাকা মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড এবং কার্বন মনোক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস। যার ফলে কর্মীরা শ্বাসরোধ হয়ে পড়ে এবং অধিকাংশ কর্মীর মৃত্যু হয়। একটি সরকারি অডিট অনুযায়ী, নর্দমা পরিষ্কার করতে গিয়ে মৃত কর্মীদের ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে কোনও সুরক্ষা সরঞ্জাম বা PPE কিট ছিল না।
ভারতে ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিং ১৯৯৩ সালে আইনত নিষিদ্ধ হলেও ২০১৩ সালের আইনে এটি দণ্ডনীয় অপরাধ বলে মনে করা হয়।তবুও যন্ত্রের পরিবর্তে মানুষকে দিয়ে এই কাজ করানোর প্রথা পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। বাস্তবে এখনও বহু জায়গায় এই প্রথা চালু রয়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও পুনর্বাসন প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও, পর্যাপ্ত নজরদারি ও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে এই সমস্যা রয়ে গেছে।
সর্বোচ্চ মৃত্যুহার যুক্ত রাজ্যসমূহ (২০২১ – ২০২৫) সাল পর্যন্ত গননা করে দেখা গেছে ভারতের প্রায় ৭৭.৫ শতাংশ মৃত্যু সাতটি রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। তার মধ্যে মহারাষ্ট্র - ৫৩ জন (সর্বোচ্চ),হরিয়ানা - ৪৩ জন,তামিলনাড়ু -৩৮ জন,উত্তরপ্রদেশ - ৩৫ জন,দিল্লি - ২৬ জন মারা গেছে।
সুপ্রিম কোর্টের ২০২৩ সালের একটি রায় অনুযায়ী, নর্দমা পরিষ্কার করতে গিয়ে কোনও কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ১০ লক্ষ টাকা। ভারত সরকার 'ন্যাশনাল অ্যাকশন ফর মেকানাইজড স্যানিটেশন ইকোসিস্টেম' প্রকল্প চালু করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো নর্দমা পরিষ্কারের কাজে মানুষের সরাসরি প্রবেশ বন্ধ করে সম্পূর্ণ যান্ত্রিকীকরণ নিশ্চিত করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং নিরাপত্তা মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, স্যানিটেশন কর্মীদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করা দরকার, যাতে তারা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ পান।
