আজকাল ওয়েবডেস্ক: গ্রেটার নয়ডার একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে গভীর রাতে মদ্যপানের আসর বসেছিল, যার শেষ পরিণতি ছিল ভয়ঙ্কর। পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ান লিভ-ইন সঙ্গীকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে মণিপুরের তরুণী। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত দক্ষিণ কোরিয়ান যুবকের নাম ডাক হি ইউ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে নয়ডার জিআইএমএস হাসপাতালে আনা হলে বীভৎস ঘটনার কথা জানতে পারে পুলিশ। তবে, তার আগেই প্রাণ হারিয়েছিল ওই বিদেশির।
এরপরই তড়িঘড়ি তদন্ত শুরু করে পুলিশ। জানা গিয়েছে যে, দক্ষিণ কোরিয়ান ডাক হি ইউ একটি স্বনামধন্য মোবাইল ফোন কোম্পানিতে শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, যে তরুণী ডাক হি ইউ-কে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁর নাম লুঞ্জেয়ানা পামাই। মণইপুরের এই বাসিন্দাই বিদেশি হত্যার প্রধান অভিযুক্ত। পুলিশি তদন্তে, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি তাঁর লিভ-ইন সঙ্গীকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার কথা স্বীকার করেছেন বলে খবর।
পুলিশ জানিয়েছে, এই যুগল গত দুই বছর ধরে একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, এই যুগল গভীর রাত পর্যন্ত মদ্যপান করছিলেন। সেই সময়েই কোনও এক বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। মৌখিক ঝগড়া ক্রমশই শারীরিক সংঘর্ষে পরিণত হয়।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, "ধস্তাধস্তির সময় রাগের মাথায় ওই তরুণী তাঁর লিভ-ইন সহ্গীকে বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। ক্ষতটি গভীর ছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।"
আঘাতের গুরুত্ব বুঝতে পেরে তরুণী তাঁকে জিআইএমএস হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত ঘোষণা করেন। ভোরের দিকে পুলিশকে একটি মেমো পাঠানো হয়, যার পর ঘটনার পুরো চিত্রটি সামনে আসে।
পুলিশ বলেছে, "দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক ডাক হি ইউ- কে ৪ জানুয়ারি জিআইএমএস হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে, নিহত ব্যক্তিকে মণিপুরের থাঙ্গালের বাসিন্দা লুঞ্জেয়ানা পামাই হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। তদন্তের সময় পুলিশ জানতে পারে যে, অভিযুক্ত তরুণী তাঁকে ছুরি দিয়ে হত্যা করেছেন। তাঁরা দু'জন দীর্ঘকাল ধরে লিভ-ইন সম্পর্কে একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। নলেজ পার্ক থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার পরিস্থিতি এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও তদন্ত চলছে।"
মামলার তদন্তকারী পুলিশ জানিয়েছে, এই যুগলের সম্পর্ক মোটেও মসৃণ ছিল না। দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকটি নাকি প্রচুর মদ্যপান করতেন এবং প্রায়শই ওই তরুণীকে মারধর করতেন, যার ফলে তাদের মধ্যে বারবার ঝগড়া হতো। অভিযুক্ত তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন যে, তিনি তাঁর লিভ-ইন সঙ্গীকে হত্যা করতে চাননি। তবে ধস্তাধস্তির সময়ই ছুরি মারার ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ কর্তারা বলেছেন, চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে তারা তরুণীর দাবিগুলো যাচাই করছেন।
পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি পুলিশি হেফাজতে আছেন এবং হত্যাকাণ্ডের পূর্ববর্তী ঘটনাগুলো পুনর্গঠনের জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
