আজকাল ওয়েবডেস্ক: শিলংয়ে আয়োজিত ‘Leveraging Externally Aided Projects in the North Eastern States’ সেমিনারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে Externally Aided Projects (EAP)-এর উপর আরোপিত ঋণের সীমা প্রত্যাহারের দাবি জানালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের উপস্থিতিতে এই মন্তব্য করেন তিনি। সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত দুই দশক ধরে ত্রিপুরা বিশ্ব ব্যাঙ্ক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক, ইন্ডো-জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে।
এই প্রকল্পগুলি শুধু আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নয়, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তিনি জানান, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের ‘নর্থ ইস্ট ইকোনমিক করিডর’ সমীক্ষায় ত্রিপুরার শিল্প, নগর পরিকাঠামো, সড়ক, বিদ্যুৎ, পর্যটন এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।
বর্তমানে রাজ্যে শিল্প পরিকাঠামো, নগর উন্নয়ন, পর্যটন, জলবায়ু সংরক্ষণ এবং তফসিলি জনজাতির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ মোট আটটি EAP চলছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, গত কয়েক বছরে ত্রিপুরার অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।
২০১৯-২০ অর্থবর্ষে রাজ্যের ডিডিপি ছিল ৫৫,৯৮৪ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বেড়ে ১ লক্ষ ৭৯৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে বার্ষিক মূলধনী ব্যয় ২০২১-২২ সালে ২,০৭৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে ১০,৪৭৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত এক বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ সংক্রান্ত মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ৮ হাজার কোটির বেশি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। এই বেসরকারি বিনিয়োগকে আরও উৎসাহ দিতে শিল্পাঞ্চল, সড়ক, বিদ্যুৎ, পর্যটন এবং জলসম্পদ ক্ষেত্রে আরও বড় পরিকাঠামোগত বিনিয়োগ প্রয়োজন।
বাইরে থেকে আসা বিনিয়োগের প্রকল্পের অর্থায়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের অংশীদারিত্ব ৮০:২০ হলেও বাস্তবে জমি অধিগ্রহণ, বনভূমির অনুমোদন এবং বিভিন্ন পরিষেবা স্থানান্তরের অতিরিক্ত খরচের কারণে রাজ্যের আর্থিক চাপ বেড়ে যায়।
সে কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ থেকে আরোপিত EAP ঋণসীমা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, 'প্রতিটি রাজ্যের প্রশাসনিক দক্ষতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষমতা বিচার করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ নির্ধারণ করা উচিত। এটি কেন্দ্রের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’-র উদ্দেশ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।'
ত্রিপুরার ভৌগোলিক অবস্থার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্য হওয়ায় ত্রিপুরাকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতির প্রভাব রাজ্যের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলার উপর পড়ে।
এর ফলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক খরচ বহন করতে হয়। পাশাপাশি, রাজ্যের নিজস্ব রাজস্ব আয়ের পরিমাণ সীমিত হওয়ায় মোট বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশ নিজস্ব উৎস থেকে আসে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মানিক সাহা বলেন, তাঁদের সহযোগিতায় ত্রিপুরায় একাধিক Externally Aided Project অনুমোদন পেয়েছে এবং রাজ্য দ্রুত উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে।
এছাড়াও, ১৬তম অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রেভিনিউ গ্যাপ গ্র্যান্ট বন্ধ হওয়ার ফলে তৈরি হওয়া আর্থিক চ্যালেঞ্জের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। ‘প্রাইড অফ হিলস’ উদ্যোগে কেন্দ্রের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে এই প্রকল্পের বরাদ্দ আরও বাড়ানোর আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী।















