আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ধীরে ধীরে সক্রিয় হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। ভারতের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৩ জুনের মধ্যে মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং ছত্তীসগঢ়ের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় মৌসুমি বায়ু অগ্রসর হওয়ার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে আগামী কয়েক দিনে দেশের একাধিক অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।


চলতি বছর মৌসুমি বায়ু ৪ জুন কেরলে প্রবেশ করে, যা স্বাভাবিক সময়সূচির তুলনায় তিন দিন দেরিতে। এরপর ধাপে ধাপে এটি কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটকের অধিকাংশ এলাকা, অন্ধ্রপ্রদেশের বড় অংশ, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের কিছু অংশ এবং সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে।


মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির পাশাপাশি একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝাও উত্তর-পশ্চিম ভারতে সক্রিয় হয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, পশ্চিম রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি, কঙ্কন ও গোয়া, গুজরাটের কিছু অংশ, কর্ণাটক, কেরল, উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুতে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।


ভারতের কৃষি অর্থনীতির জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০ শতাংশই এই মৌসুমি বায়ুর মাধ্যমে হয়, যা খরিফ ফসলের চাষ, জলসম্পদের সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ভালো বর্ষা কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ চাহিদা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও শক্তিশালী করে।


তবে চলতি বছর পরিস্থিতি কিছুটা উদ্বেগজনক। কারণ ২০২৬ সাল এল নিনো প্রভাবিত বছর। প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকায় ভারতীয় মৌসুমি বায়ু দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই IMD চলতি মৌসুমে দীর্ঘমেয়াদি গড় ৯০ শতাংশ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় কম। এর ফলে কৃষি উৎপাদন, জলাধারের জলস্তর এবং পানীয় জলের প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


এদিকে ১৯ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত বিহার ও ঝাড়খণ্ডে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, দিল্লি, পাঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায়ও বিচ্ছিন্ন থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে ২৫ জুনেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং বিদর্ভের কিছু অংশে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় ছিল। যদিও শুক্রবারের বুলেটিনে নতুন করে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়নি।

 

&t=4s
বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ১ থেকে ১৮ জুনের মধ্যে দেশের ৭৪১টি জেলার মধ্যে ২৫৮টি জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হয়েছে, আর ২২৩টি জেলায় বড় ধরনের বৃষ্টির ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গ ও গুজরাতে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং তামিলনাড়ু ও ওড়িশার কয়েকটি এলাকায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের বর্ষার অগ্রগতি দেশের কৃষি ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।