আজকাল ওয়েবডেস্ক: কোভিডের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা ভাবলে আজও গায়ে কাঁটা দেয়। অক্সিজেনের অভাবে যখন চারিদিকে হাহাকার, তখন নিজের উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বেঙ্গালুরুর এক যুবক। কিন্তু সেই নিঃস্বার্থ সেবার জন্য আজ তাঁকে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। করোনা মহামারীর সময় মুমূর্ষু রোগীদের জন্য বিদেশ থেকে অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর আনিয়েছিলেন বিনয় কুমার নামের ওই সমাজকর্মী। আর এখন, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর তাঁকে প্রায় সাড়ে ৩৫ লক্ষ টাকার বিল পাঠিয়েছে শুল্ক দফতর!

বিনয় কুমার পেশায় একজন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার। ২০২১ সালের মে মাসে, কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়, তিনি নিজের উদ্যোগ ও অনুদানের টাকায় জার্মানি থেকে ৭০০টি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর দেশে নিয়ে আসেন। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিনামূল্যে সেগুলো বিলি করেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি মুম্বইয়ের শুল্ক দপ্তর থেকে তাঁর কাছে একটি নোটিস এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, কনসেন্ট্রেটরগুলো আনার সময় তিনি যে ‘ইমপোর্ট এক্সপোর্ট কোড’ ব্যবহার করেছিলেন, সেটি মূলত ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিসপত্র আমদানির জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে ৩৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, ১০ শতাংশ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সারচার্জ এবং ২৮ শতাংশ আইজিএসটি মিলিয়ে মোট ৩৫ লক্ষ টাকার বেশি কর মেটাতে হবে।

অথচ করোনার সেই চরম সংকটের সময় চিকিৎসায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে সমস্ত রকম শুল্ক ও কর মকুব করেছিল কেন্দ্র সরকার। বিনয় জানিয়েছেন, তিনি শুরুতেই স্পষ্ট করেছিলেন যে ওই কনসেন্ট্রেটরগুলো ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নয়, বরং বিনামূল্যে বিতরণের জন্য আনা হয়েছে। যাদের এগুলো দেওয়া হয়েছে, তাদের সই এবং আধিকারিকদের প্রশংসাপত্রও তাঁর কাছে রয়েছে। তা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট নোডাল অফিসারের কাছ থেকে শংসাপত্র না নেওয়ার অজুহাতে এখন তাঁকে এই বিপুল অঙ্কের টাকা জরিমানা হিসেবে দিতে বলা হচ্ছে।

যে মানুষটি চরম বিপদের দিনে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন, আজ সরকারি নিয়মের জাঁতাকলে তাঁর এই হেনস্থা দেখে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা সরকারি ব্যবস্থার এই অদ্ভুত আচরণের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছেন।