আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্ষবরণের রাতেই রক্তারক্তি কাণ্ড। বন্ধুর ফ্ল্যাটে হুল্লোড়ের মাঝেই ১৬ তলা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল এক তরুণকে। মাটিতে ঠাস করে পড়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড ঘিরে শোরগোল শহরজুড়ে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে নয়ডায়। মঙ্গলবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেন্ট্রাল নয়ডায় বিসরাখ এলাকায় বর্ষবরণের পার্টি চলাকালীন ২৮ বছরের এক তরুণকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। আবাসনের ১৬ তলা থেকে তরুণকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে একাধিক যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, আম্রপালি গল্ফ হোমস সোসাইটির টাওয়ার এ-৩ আবাসনের ১৬ তলা থেকে তরুণকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। প্রথমে দুর্ঘটনায় তরুণের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল পুলিশকে। মৃত তরুণের নাম, বীনিত রাজ। তিনি বিহারের সিওয়ান জেলার বাসিন্দা ছিলেন। 

বর্ষবরণের সময় গভীর রাতে তাঁকে একদল যুবক তুমুল হেনস্থা করে মারধর করেন। এরপর খুনের উদ্দেশ্যে ১৬ তলা থেকে ধাক্কা দিয়ে তাঁকে ফেলে দেন। পরবর্তীতে এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়। ৪ জানুয়ারি বিশাল মিশ্র ও ধীরজ কুমার সিং নামের দুই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত আরও পাঁচজনের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, মৃত তরুণের বন্ধু আয়ুষের ফ্ল্যাটে সেদিন পার্টি চলছিল। আয়ুষের সঙ্গে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনের পুরনো বচসা ছিল। সেদিন রাতে আয়ুষ আচমকাই নিজের ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে আরেক বন্ধুর ফ্ল্যাটে যান। সেই সময় ফ্ল্যাটে ছিলেন বীনিত। অভিযুক্তরা আয়ুষের খোঁজ করতে আসেন। সেই সময় বীনিতের সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। তখনই ১৬ তলা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন তাঁকে। থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন আয়ুষ। 

গত মাসে আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল নয়ডায়। টাকার জন্য নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মত্ত অবস্থায় এক কোপে তরুণের মুণ্ডু কেটে ফেলেছিলেন বন্ধুরা। এরপর ভিন জেলায় দেহ ভাসিয়ে দেন। যে ঘটনায় শিউরে উঠেছিল পরিবার, ও স্থানীয়রাও। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে। পুলিশ জানিয়েছিল, ২০ বছর বয়সি এক তরুণকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বন্ধুদের বিরুদ্ধে। তরুণের মুণ্ডু কেটে মহারাজগঞ্জ জেলায় একটি খালে দেহ ভাসিয়ে দেন বন্ধুরা। সোমবার সন্ধ্যায় তরুণের মুণ্ডু ও দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি দুই অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। 

মৃত তরুণের নাম, অম্বুজ। তিনি সূর্য বিহার কলোনির বাসিন্দা ছিলেন। গত ২৬ নভেম্বর বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। এক বিয়েবাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। ফোনটিও বন্ধ ছিল। অবশেষে ২৮ নভেম্বর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার। 

তদন্তে নেমে অম্বুজের বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘ জেরায় এক বন্ধু জানায়, মত্ত অবস্থায় বন্ধুদের সঙ্গে অম্বুজের টাকা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছিল। রাগের মাথায় তাঁকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন করেন তাঁরা। এক কোপে মুণ্ডু কেটে নেন। এরপর দেহ ও মুণ্ডু নিয়ে মহারাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। মুণ্ডুটি একজায়গায় ফেলে, ১০ কিলোমিটার দূরে আরেকটি খালে দেহ ভাসিয়ে দেন। 

দেহের টুকরো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। অম্বুজের দুই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। আরেকজনের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে। ধৃতদের বয়স ১৯ থেকে ২১ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে।