আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২১ সালের বহুল আলোচিত কর্ডেলিয়া ক্রুজ মাদক মামলায় প্রাক্তন এনসিবি আধিকারিক সমীর ওয়ানখেড়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া খারিজের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি অনিল ক্ষেতারপাল ও বিচারপতি অমিত মহাজনের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রের আর্জি মঞ্জুর করে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের (সিএটি) জানুয়ারির রায়ে স্থগিতাদেশ দেয়।
সমীর ওয়ানখেড়ে, যিনি ২০২১ সালে মুম্বইয়ে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) জোনাল ডিরেক্টর ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ—কর্ডেলিয়া ক্রুজ জাহাজে মাদক উদ্ধারের মামলায় ২৫ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন বলিউড তারকা শাহরুখ খানের আরিয়ান খান, যিনি ওই অভিযানের পর গ্রেপ্তার হন। কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, আরিয়ান খানকে ফাঁসানো থেকে রেহাই দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ চাওয়া হয়েছিল; অন্য কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রুজ সংস্থার মালিকদের কাছ থেকে এই অর্থ দাবি করা হয়।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ওয়ানখেড়ের বিরুদ্ধে জারি হওয়া চার্জ মেমোর্যান্ডাম খারিজ করে দেয়। ট্রাইব্যুনাল জানায়, শাস্তিমূলক পদক্ষেপে একাধিক প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল এবং এটি “প্রতিহিংসা” ও “ব্যক্তিগত বিদ্বেষ”-প্রসূত বলে মনে হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, এনসিবির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও ওয়ানখেড়ে গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং তদন্তের গতিপথ প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কেন্দ্র হাইকোর্টে আবেদন করে। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রের আবেদন গ্রহণ করে সিএটি-র রায়ে স্থগিতাদেশ দেয়। ফলে ওয়ানখেড়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া আপাতত বহাল থাকছে। ২০২১ সালের ২ অক্টোবর মুম্বই উপকূলে কর্ডেলিয়া ক্রুজ জাহাজে এনসিবির অভিযানে আরিয়ান খান-সহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আরবাজ মার্চেন্ট ও মডেল মুনমুন ধামেচাও। সংস্থার দাবি ছিল, জাহাজ থেকে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে।
&t=21sতবে ২৮ অক্টোবর বম্বে হাইকোর্ট আরিয়ান খানদের জামিন মঞ্জুর করে জানায়, তাঁর কাছ থেকে কোনও মাদক উদ্ধার হয়নি এবং ষড়যন্ত্রের প্রমাণও মেলেনি। পরবর্তীতে ২০২২ সালের মে মাসে এনসিবি আরিয়ান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়, কারণ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর কিছুদিন পরই ওয়ানখেড়েকে চেন্নাইয়ে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্যাক্সপেয়ার সার্ভিসেসে বদলি করা হয়। পাশাপাশি মামলায় অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে এসআইটি জানায়, তদন্তে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে এবং কয়েকজনকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে “নির্বাচিত আচরণ” করা হয়েছে।
দিল্লি হাইকোর্টের এই স্থগিতাদেশে ওয়ানখেড়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্ত আপাতত চালু থাকবে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত বিষয়টি আরও আইনি জটিলতার মধ্যে দিয়ে যেতে পারে। কর্ডেলিয়া মামলাটি শুরু থেকেই রাজনৈতিক ও জনমাধ্যমের তীব্র নজরে ছিল। নতুন এই আইনি মোড় সেই বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এল।
