আজকাল ওয়েবডেস্ক: পারিবারিক বিবাদের জেরে রণক্ষেত্র গোটা গ্রাম। ডিনারের টেবিলে সামান্য বচসা থেকে মুহূর্তের মধ্যে রক্তারক্তি কাণ্ড৷ ঘটনাটি ঘটেছে সীতাপুরের ঠাকুরপুরভায়। নিজের দুই ভাই ও বৌদিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে স্বামী ও স্ত্রীর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও একজন। বুধবার রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে নৈমিষারণ্য থানা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম শ্যামু (৩৭)। রাতের বেলা পারিবারের সকলে মিলে ডিনারের সময় কোনও একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাঁর দুই ভাই হরিশ (৪০) ও রামুর সঙ্গে বচসা শুরু হয়। বিবাদ চলাকালীন হঠাৎই মেজাজ হারিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভাইদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শ্যামু। স্বামীকে বাঁচাতে তাঁর স্ত্রী পুনম ছুটে এলে তাঁকেও কোপাতে শুরু করে অভিযুক্ত।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুর্গেশ সিং জানিয়েছেন, "তিনজনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পুনমকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু হয় বড় ভাই হরিশেরও। অন্য ভাই রামুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।"
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সামান্য ঝগড়া থেকে রাগের মাথায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েই এই হামলা চালিয়েছে শ্যামু। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক। পুলিশ মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং একটি খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বর্তমানে ফেরার শ্যামুর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশের বিশেষ টিম। অভিযুক্তকে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে৷
অন্যদিকে, সোজা ঘরে ঢুকে প্রতিবেশীকে খুন৷ সাতসকালে নয়, একেবারে ভরা বিকেলে ঘরে ঢুকে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। গত বুধবার বেঙ্গালুরুর নেলামঙ্গলায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। জানাজানি হতেই আতঙ্ক এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম শোভা (৬৯)। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে শিবকুমার (৩৬) নামে এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে লুঠ হওয়া প্রায় ১০০ গ্রাম সোনার গয়না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেটে বিদি এলাকার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধা দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তাঁর পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্বামীর সেবা করে আসছিলেন। তাঁদের কোনও সন্তান নেই। গত বুধবার বিকেল ৪টে নাগাদ বৃদ্ধা যখন ঘরে ফেরেন, ঠিক তখনই জল খাওয়ার অছিলায় বাড়িতে ঢোকে প্রতিবেশী শিবকুমার। বৃদ্ধার শরীরের সোনার গয়না দেখে সে চড়াও হয়। বাধা দিতে গেলে প্রথমে ছুরি দিয়ে আঘাত এবং পরে শ্বাসরোধ করে বৃদ্ধাকে খুন করে সে গয়না নিয়ে চম্পট দেয়।
নেলামঙ্গলা টাউন থানার পুলিশ আধিকারিক ভরত গৌড়া জানিয়েছেন, অভিযুক্ত যুবক দেনার দায়ে জর্জরিত ছিল। সেই দেনা মেটাতেই সে এই চুরির ছক কষেছিল। বৃদ্ধা একা রয়েছেন বুঝে সে হামলা চালায়। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ ঘাতককে ধরে ফেলে। পাশাপাশি অভিযুক্ত এর আগে কখনও এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
















