আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে এক মর্মান্তিক ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের মধ্যেই ভয়াবহ রক্তাক্ত হামলার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ বছরের ইঞ্জিনিয়ার হার্দিক নিজের যমজ বোন হিমাশিখাকে খুন করেছে এবং মাকে গুরুতর জখম করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শহরের বুদ্ধ বিহার এলাকায় গত শুক্রবার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হার্দিক ও হিমাশিখা—দু’জনেই পেশায় ইঞ্জিনিয়ার এবং কিছুদিন ধরে গুরুগ্রামে কাজ করছিলেন। পাশাপাশি হিমাশিখা এমবিএ পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হার্দিক প্রায় দেড় বছর একটি সংস্থায় কাজ করার পর হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দেয়। এরপর থেকে সে দীর্ঘ সময় সামাজিক মাধ্যমে কাটাতে শুরু করে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত কয়েক মাসে তার আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। প্রায় রাতভর মোবাইল ফোনে অনলাইন চ্যাটে ব্যস্ত থাকত সে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে পুনের এক মুসলিম তরুণীর সঙ্গে হার্দিকের পরিচয় হয় এবং তাকে বিয়ে করতে চাইছিল সে। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে তার যমজ বোন হিমাশিখা এবং মা নীলিমা বারবার তাকে সাবধান করেছিলেন। তাঁরা হার্দিককে প্রথমে নিজের ক্যারিয়ারে মনোযোগ দিতে বলতেন বলে পরিবারের দাবি।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৬ মার্চ সন্ধ্যায় একই বিষয় নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে আবারও তর্কাতর্কি শুরু হয়। সেই তর্ক দ্রুতই উত্তপ্ত বিবাদে পরিণত হয়। অভিযোগ, রাগের মাথায় হার্দিক রান্নাঘর থেকে একটি সবজি কাটার ছুরি নিয়ে এসে হিমাশিখার উপর হামলা চালায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে, হিমাশিখার শরীরে মোট ৮৪টি ছুরির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুরুতর জখম অবস্থায়ই তার মৃত্যু হয়।
এই নৃশংস ঘটনার পর হার্দিক নাকি নিজের মার কাজের জায়গায় গিয়ে তাকে বাড়ি ফেরার জন্য বলেন। তিনি নাকি মাকে বলেন, “চলো বাড়ি যাই, তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।” নীলিমা, যিনি একটি বিমা সংস্থায় সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন, ছেলের সঙ্গে বাড়ি ফিরে এসে দেখেন মেঝেতে রক্তের মধ্যে পড়ে রয়েছে তার মেয়ে। সেই দৃশ্য দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে হার্দিক নাকি তার উপরও হামলা চালায়।
গুরুতর জখম অবস্থায় নীলিমাকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, এখন তিনি বিপদমুক্ত। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হার্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরায় সে জানিয়েছে, বারবার ক্যারিয়ার নিয়ে চাপ এবং সম্পর্ক নিয়ে পরিবারের আপত্তি তাকে মানসিকভাবে ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। সেই জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ।
এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, অভিযুক্তের মানসিক অবস্থায় কোনও পরিবর্তন হয়েছিল কি না এবং সামাজিক মাধ্যমে তার যোগাযোগগুলির ভূমিকা কতটা ছিল।
