আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঘরের ভিতর পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন, বাইরে থেকে তেমনটাই জানতেন সকলে। গৃহকর্মী সময়ে পৌঁছেও যান কাজের জন্য। কিন্তু তারপরেই ঘটে বিপত্তি। ঘরের দরজা বন্ধ ছিল ভিতর থেকে। বাইরে থেক দরজা ধাক্কা দেওয়ার পরেও দরজা খোলেননি কেউ। তিনি তৎক্ষণাৎ খবর দেন উপরের তলায় থাকা ভাড়াটিয়াকে খবর দেন। খবর দেওয়া হয় অপর এক প্রতিবেশীকে।দুই পরিবার মিলে ওই ব্যক্তি এবং তার স্ত্রীকে বেশ কয়েকবার ফোন করেও কোনও লাভ হয়নি। তাঁরা দরজা খুলেই রকারক্তি পরিস্থিতি দেখতে পান। দেখতে পান, মেঝেতে একের পর এক মৃতদেহ পড়ে রয়েছে।
ঘটনাস্থল পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলার। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি তার স্ত্রী এবং দুই মেয়েকে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন নিজেই। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে খুনের অস্ত্র, একটি পিস্তল উদ্ধার করেছে।
জানা গিয়েছে, ৪২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম অমনদীপ সিং। তিনি তাঁর স্ত্রী জসবীর কৌর (৪০) এবং তাঁদের দুই মেয়ে মনবীর কৌর (১০) এবং পারমিত কৌর (৬)কে গুলি করে খুন করেন। পরে নিজেও আত্মঘাতী হন। মৃতদেহের কাছে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
অমনদীপ সিং একজন নির্মাতা ছিলেন বলে জানা গিয়েছে, জানা গিয়েছে তাঁর একটি সেলুনও রয়েছে এলাকায়। ঘটনা প্রসঙ্গে, সিনিয়র পুলিশ সুপার ভূপিন্দর সিং সিধু বলেছেন, অপরাধের পিছনের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য একটি ফরেন্সিক দল মোতায়েন করা হয়েছে। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য ফিরোজপুরের সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে, সামনে আসে অসমের এক ঘটনা। অসমের শিবসাগর জেলায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারালেন এক ব্যক্তি। মৃতের নাম রঞ্জিত পান্ডব (৪১)। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় তিনি প্রথমে প্রতিবেশীদের ওপর দা নিয়ে চড়াও হন এবং পরে পুলিশকে আক্রমণ করতে যান। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ডিমৌ এলাকার বরদিরাই চা বাগানে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রঞ্জিত নিয়মিত মদ্যপান করতেন। এমনকী এলাকায় যথেষ্ট উগ্র মেজাজের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাড়িতে স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের ওপর প্রায়ই চলত অকথ্য নির্যাতন। লাঠি দিয়ে পেটানো বা দা উঁচিয়ে খুনের হুমকি দেওয়া ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পেতে গত রবিবারই তাঁর পরিবার ঘর ছেড়ে এক আত্মীয়র বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
মঙ্গলবার রাতে ফের মত্ত অবস্থায় এলাকায় চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন রঞ্জিত। সেই সময় প্রতিবেশী মর্তিন পান্ডব ও তাঁর স্ত্রী তাঁকে শান্ত হতে বলেন। তাঁদের মেয়ের সামনেই পরীক্ষা, তাই পড়াশোনার সমস্যার কথা বলতেই মেজাজ হারান রঞ্জিত। হাতের দা নিয়ে তিনি ওই দম্পতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। দায়ের কোপে মর্তিনের ঘাড় এবং তাঁর স্ত্রীর পা মারাত্মকভাবে জখম হয়। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গোলমাল থামাতে গ্রামের বয়স্করা এগিয়ে এলে রঞ্জিত তাঁদেরও তাড়া করেন। খবর পেয়ে ডিমৌ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁদের দিকেও দা উঁচিয়ে তেড়ে যান তিনি। দীর্ঘক্ষণ বোঝানোর চেষ্টা করলেও রঞ্জিত থামেননি। এরপর আত্মরক্ষার্থে কমান্ডো রূপম বরপাত্র প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি এবং পরে রঞ্জিতের পা লক্ষ্য করে গুলি চালান। উরুতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা রঞ্জিতকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
