আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে রাজ্যের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা নরহরি জিরওয়ালের একটি 'আপত্তিকর' ভিডিও ঘিরে। গত কয়েকদিন ধরে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটিতে মন্ত্রীকে এক রূপান্তরিত মহিলার  সঙ্গে অত্যন্ত বিতর্কিত অবস্থায় দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ অবশেষে মুখ খুলেছেন এবং জানিয়েছেন যে, ভিডিওটির সত্যতা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

৬৬ বছর বয়সী প্রবীণ এই নেতা নাসিকের দিন্ডোরি থেকে চারবারের বিধায়ক এবং বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলো। তবে জিরওয়াল নিজে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে টেলিফোনে নিজের অবস্থান জানিয়ে তিনি দাবি করেছেন যে, এটি আসলে একটি 'স্টিচড' বা জোড়া দেওয়া ভিডিও। তাঁর কথায়, তিন-চারটি আলাদা আলাদা  ক্লিপ একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে এই কৃত্রিম দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে যাতে তাঁকে সামাজিকভাবে হেনস্তা এবং ব্ল্যাকমেল করা যায়। যদিও ভিডিওতে থাকা সঙ্গিনীকে তিনি গত পাঁচ বছর ধরে চেনেন বলে স্বীকার করেছেন, তবে ভিডিওর বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে তাঁর দাবি।

মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ এই বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা বাড়াচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি জিরওয়ালকে অবিলম্বে পুলিশের সাইবার সেলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছেন। ফড়নবীশ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ফরেনসিক তদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত কোনও  তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। রিপোর্ট আসার পর উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারের সঙ্গে আলোচনা করে জিরওয়ালের মন্ত্রিত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হবে। উল্লেখ্য, অজিত পাওয়ারের প্রয়াণের পর সুনেত্রা পাওয়ারই এখন দলের প্রধান নেত্রী এবং সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হর্ষবর্ধন সাকপাল তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর মতে, এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত ভিডিওর বিষয় নয়, বরং এটি মহারাষ্ট্রের রাজনীতির নৈতিক অধঃপতনের প্রতিফলন। বিরোধী দলগুলোর দাবি, মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনেই এই ভিডিও করা হয়েছে, যা পদের অমর্যাদা। কংগ্রেসের পাশাপাশি আম আদমি পার্টিও (AAP) মন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে সরব হয়েছে।

নরহরি জিরওয়ালের জন্য সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। মাত্র এক মাস আগেই তাঁর দপ্তরের এক ক্লার্ক ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন, যা নিয়ে বিধানসভায় তুমুল হট্টগোল হয়। সেই বিতর্ক পুরোপুরি থিতু হওয়ার আগেই এই নতুন ভিডিও কেলেঙ্কারি তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে বড়সড় সংকটের মুখে ফেলে দিল। এখন রাজ্যবাসীর নজর কেবল ফরেনসিক রিপোর্টের দিকে, যা ঠিক করে দেবে জিরওয়াল মন্ত্রিসভায় থাকবেন নাকি তাঁকে বিদায় নিতে হবে।