আজকাল ওয়েবডেস্ক: চিকিৎসক সেজে চিকিৎসার নামে চরম প্রতারণা! এক ভুয়ো চিকিৎসকের দেওয়া ইঞ্জেকশনে প্রাণ হারালেন নভি মুম্বইয়ের ২১ বছর বয়সি এক তরুণী। অভিযুক্ত যুবক আদতে একটি বেসরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভাশি এলাকায়।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম প্রচিতি ভিকুরাম ভুভাড়। পরিবার সূত্রে খবর, ঋতুচক্রের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত সন্দেশ যশবন্ত পাস্তে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে প্রচিতির বাড়িতে আসেন। তিনি দাবি করেন, তরুণী ‘পিসিওডি’(পলিসিস্টিক ওভারি)-তে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য পাঁচটি ইঞ্জেকশন দিতে হবে জানিয়ে ১৫ হাজার টাকাও নেন ওই যুবক।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে দু’টি ইঞ্জেকশন দেন সন্দেশ। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই প্রচিতি জ্ঞান হারান। অবস্থা বেগতিক দেখে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও চিকিৎসার সরঞ্জাম ভর্তি ব্যাগটি তরুণীর বাবাকে দিয়ে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রচিতিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারের চাপে পড়ে শেষে নিজের অপরাধ কবুল করেন সন্দেশ। জানান, তিনি চিকিৎসক নন, আন্ধেরির একটি নার্সিং হোমের সামান্য ওয়ার্ড বয় মাত্র। ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বাশি থানার পুলিশ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন ও প্রতারণার মামলা রুজু হয়েছে। তরুণীর শরীরে ঠিক কী ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, মৃত এক মহিলার দুটি চোখ ও দেহের অঙ্গ প্রচুর অর্থের বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগ তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালী থানার শেনপুর শ্যামনগর পাড়া এলাকায়। মৃতার নাম রাবেয়া বিবি। অভিযোগ, রাবেয়া বিবির তিন ছেলে মাকে দেখভাল করত না। এমনকী মা বলেও পরিচয় দিত না। গত রবিবার সকালে রাবেয়া বিবি মারা যায় বলে জানায় তাঁর ছেলেরা। মারা যাওয়ার পর একটি গাড়ি করে বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয় চিকিৎসক এসে তাদের মায়ের চক্ষু নাকি নিয়ে গিয়েছে! স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, এর আগে অঙ্গ বা চক্ষু দান করার জন্য কোনও সংগঠন বা সংস্থার সঙ্গে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন না রাবেয়া বিবি। তাহলে কীসের ভিত্তিতে চিকিৎসকের দল বাড়িতে এসে মৃত মহিলার চক্ষু নিয়ে গিয়েছে?
গ্রামবাসীদের আরও ধারণা শুধু চক্ষু নয় তাঁর দেহের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রচুর অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। যেটা করেছে তাঁর ছেলেরা। এরকমই অভিযোগ তাঁদের। এই ঘটনা প্রকাশ্য জানাজানি হতেই শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা গণস্বাক্ষর করে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায়। পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মৃত মহিলার তিন সন্তান এতদিন মায়ের সাথে কোনওরকম যোগাযোগ রাখত না। হঠাৎ করে কীভাবে মায়ের মৃত্যু হল এবং মৃত্যুর পরে তাঁর দেহের অঙ্গ কোন্ সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। একই সাথে মৃতার সন্তানরা যে সংস্থার কাগজপত্র দেখাচ্ছে, তার বৈধ সত্যতা কতটা তারও তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ প্রশাসনের কাছে। যদিও এ বিষয়ে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সম্ভব জৈন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। ইতিমধ্যেই পুলিশ একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। আজ মৃতদেহটি ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। তারপর সবকিছু জানা যাবে। এছাড়া বাড়ির লোক তাঁর চক্ষুদানের কিছু কাগজপত্র দেখিয়েছে সেগুলো আমরা যাচাই করছি।
