আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাড়ির লোকই যে সিঁধ কাটবে, তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি মা। নিজেরই মায়ের গয়না চুরি করে পুলিশের জালে ধরা পড়ল ৩০ বছরের এক যুবক। মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলার এই ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তবে চুরির মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই খোয়া যাওয়া সোনা উদ্ধার করে তা অভিযোগকারিণীর হাতে তুলে দিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, লাতুরের ভাদগাঁওয়ের বাসিন্দা সুনীতা দগদু ভামরে গত সোমবার চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি ছিল, কোনও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে তাঁর সোনার হার, ছ’টি আংটি এবং দু’টি দুল নিয়ে চম্পট দিয়েছে।

তদন্তে নেমে পুলিশ সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে অনুমান করে এটি কোনও বাইরের লোকের কাজ নয়। যা হয়েছে বাড়িত মধ্যে থেকেই হয়েছে৷ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও স্থানীয় সূত্র ধরে খবরাখবর নেওয়ার পর পুলিশের নজরে আসেন সুনীতার নিজের ছেলে প্রশান্ত ভামরে। পেশায় শ্রমিক ওই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। পুলিশের কড়া জেরার মুখে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনি ওই যুবক। সে স্বীকার করে নেয় যে, মায়ের অলঙ্কার সে-ই হাতিয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির ভেতরেই একটি আলমারির আড়ালে গয়নাগুলো লুকিয়ে রেখেছিল সে। সেখান থেকেই সব সোনা উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ সেই গয়না তার মায়ের হাতে ফিরিয়ে দেয়। এমন কাণ্ড ঘটিয়ে আপাতত শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে ওই গুণধর পুত্রের।

অন্যদিকে, ডিউটি সেরে সবে বেরিয়েছিলেন। আচমকা একদল বাইক নিয়ে এসে ছেকে ধরল তরুণীকে। গোরক্ষপুর এমস-এ কর্মরত নাগাল্যান্ডের এক তরুণী চিকিৎসককে শ্লীলতাহানি। শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে বর্ণবিদ্বেষী হেনস্থার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উত্তরপ্রদেশের এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পলাতক আরও এক অভিযুক্ত। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টা নাগাদ ওই তরুণী চিকিৎসক যখন মোহদ্দিপুরের একটি মল থেকে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন, তখন থেকেই তিন যুবক তাঁর পিছু নেয়। অভিযোগ, প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ ওই চিকিৎসককে বাইকে করে তাড়া করে অভিযুক্তরা। সেই সময় তাঁর উত্তর-পূর্ব ভারতের জাতিগত পরিচয় নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য ও অশ্লীল গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ।

নির্যাতিতা চিকিৎসক জানান, এমস-এর ২ নম্বর গেটের সামনে তাঁকে ঘিরে ধরে ওই যুবকেরা। ভয় দেখানোর জন্য এক জন নিজের জামা খুলে ফেলে এবং অন্য জন তাঁকে অশালীনভাবে স্পর্শ করে। তরুণী চিৎকার শুরু করলে এলাকা ছেড়ে পালায় অভিযুক্তরা। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ সুরজ গুপ্ত ও অমৃত বিশ্বকর্মা নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। জানা গিয়েছে, তারা দেওরিয়া জেলার বাসিন্দা।

এই ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়েছে চিকিৎসক সংগঠন ‘নাফোর্ড’। তারা জানিয়েছে, নিজের কর্মক্ষেত্রের কাছেই এক জন মহিলা রোগ বিশেষজ্ঞকে যে ভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। 

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘উত্তর-পূর্ব ভারতের মেয়েদের সঙ্গে এই বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণ কোনও সভ্য দেশ মেনে নিতে পারে না।’’ প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।