আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ার বুধবার সকালে বারামতী বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের চেষ্টার সময় বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। এই খবরের জেরে রীতিমতো দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।


বারামাতি বিমানবন্দরে বিমানটি নামার সময়ই দুর্ঘটনা ঘটায় ঘটনাস্থলে বড় ভাঙচুর ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠাচ্ছেন, যেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দ্রুত পরিস্থিতি বিবেচনা করে জানিয়েছেন যে পূর্ণ তদন্ত করে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয় করা হবে। 


এই দুর্ঘটনা মূলত স্থানীয় ও রাজ্যস্তরে একটি বড় খবর হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অজিত পাওয়ার দীর্ঘদিন ধরে মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে সক্রিয় এবং তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন, বিশেষ করে NCP-র নেতৃত্বে।  এই ধরনের বিমান দুর্ঘটনা সাধারণত বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে পরিচালিত হলেও, প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার কারণ জানা যায়নি। 

অজিত পাওয়ার জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে বারামাতিতে চারটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। মুম্বই থেকে চার্টার করা বোম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট ৪৫ বিমানে করে তিনি বারামাতির উদ্দেশে রওনা দেন। তবে অবতরণের আগেই বিমানটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সম্পূর্ণ বিমানটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ঘটনাস্থলের প্রাথমিক দৃশ্যে দেখা যায়, বিমানটি পুরোপুরি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়ে আছে এবং চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ। দুর্ঘটনার পরপরই সেখানে ভয়াবহ আগুন লাগে এবং কালো ধোঁয়া আকাশে উড়তে দেখা যায়। বারামাতি এলাকাজুড়ে মুহূর্তের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দমকল ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাজনৈতিক দিক থেকেও এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শরদ পাওয়ারের দাদা অনন্তরাও পাওয়ারের পুত্র অজিত পাওয়ার দীর্ঘদিন ধরেই মহারাষ্ট্র রাজনীতির প্রভাবশালী মুখ। কাকা শরদ পাওয়ারের মতোই তিনি ধাপে ধাপে রাজনীতিতে উত্থান ঘটান এবং বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের সমবায় ক্ষেত্রের উপর শক্ত দখলের মাধ্যমে নিজের অবস্থান মজবুত করেন।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কৃষি, সমবায় ব্যাঙ্ক এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উপর বিশেষ প্রভাব রয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে এই সফর রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেই মনে করা হচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা ও ঘটনার কারণ নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে বাড়তি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।