আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার সকালে কুয়েত থেকে দিল্লিগামী একটি ইন্ডিগো বিমান বোমা হামলার হুমকির জেরে মাঝপথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় আহমেদাবাদে।
‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে বিমানটিকে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামানো হয়। বিমানে মোট ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন জানা গিয়েছে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমানবন্দরে অবতরণ করানোর পর বিমানের ভিতর চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোনও সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
সকাল প্রায় ৬.৪০ মিনিট নাগাদ বিমানটি নিরাপদে আহমেদাবাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর সূত্রে আরও জানা গেছে, বিমানের এক যাত্রী একটি কাগজে হাতে লেখা একটি নোট খুঁজে পান।
সেখানে বিমানের ভিতরে বোমা থাকার দাবি করা হয়। সেই তথ্য জানার পর পাইলট সঙ্গে সঙ্গে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলকে সতর্ক করেন এবং বিমানটি আহমেদাবাদের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
অবতরণের পর সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী ও বিমানবন্দর কর্মীরা বিমানের ভিতরে তল্লাশি চালান। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে এক আধিকারিক জানান, ‘এখনও পর্যন্ত কোনও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হয়নি। চূড়ান্ত ছাড়পত্র মিললে বিমানটি আবার যাত্রা শুরু করবে।’
এর পাশাপাশি ইন্ডিগো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কুয়েত থেকে দিল্লিগামী তাদের 6E-1232 বিমানটি নিরাপত্তাজনিত হুমকির কারণে মাঝপথে আহমেদাবাদে ঘুরিয়ে করা হয়।
বিবৃতিতে ইন্ডিগোর এক মুখপাত্র বলেন, ‘৩০ জানুয়ারি শুক্রবার কুয়েত থেকে দিল্লিগামী ইন্ডিগো 6E 1232 বিমানে একটি নিরাপত্তাজনিত হুমকি ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং সমস্ত নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা শেষে বিমানটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই সেটি যাত্রা শুরু করবে।’
ইন্ডিগো আরও জানিয়েছে, এই ঘটনার ফলে যাত্রীদের যে অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য তারা দুঃখিত। যাত্রীদের জন্য খাবার, পানীয় ও নিয়মিত আপডেট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’
সম্প্রতি, দেশের বৃহত্তম এয়ারলাইন্স ইন্ডিগোর মোট ফ্লাইট পরিচালনার ১০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার সেই স্লটগুলো অন্যান্য ঘরোয়া এয়ারলাইন্সের মধ্যে পুনর্বণ্টন করেছে।
সরকারের দাবি, এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত উদ্যোগের লক্ষ্য হল যাত্রী পরিষেবা বজায় রাখা, রুট কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করা এবং বিমানবন্দরের সক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা।
বিমান পরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইন্ডিগোর দ্রুত সম্প্রসারণ, অপারেশনাল চাপে সময়ানুবর্তিতা ও পরিষেবার মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল।
সেই প্রেক্ষিতেই সাময়িকভাবে ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে যেসব স্লট খালি হয়েছে, সেগুলো এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ, আকাশ এয়ার, ভিস্তারা ও স্পাইসজেটের মতো অন্যান্য দেশীয় সংস্থার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রের মতে, এই পুনর্বণ্টন কোনও এককালীন পদক্ষেপ নয়, বরং একটি “ফেজড অ্যাপ্রোচ”-এর অংশ। অর্থাৎ ধাপে ধাপে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, এর মূল উদ্দেশ্য কোনও নির্দিষ্ট এয়ারলাইন্সকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং সামগ্রিকভাবে বিমান পরিষেবার মান উন্নত করা।
ইন্ডিগো বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে তাদের ফ্লাইট কমানো মানেই বহু ব্যস্ত রুটে সম্ভাব্য আসনসংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
তবে সরকার জানিয়েছে, স্লট পুনর্বণ্টনের ফলে সেই শূন্যতা দ্রুত পূরণ করা হবে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোই অগ্রাধিকার।
