আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিজের পছন্দে বিয়ে করার 'অপরাধে' গোটা পরিবারকে একঘরে করে দেওয়ার নিদান দিল মধ্যপ্রদেশের এক গ্রাম। রতলাম জেলার পাঞ্চেওয়া গ্রামের এই ঘটনায় রীতিমত শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে- প্রকাশ্য সভায় রীতিমতো ঘোষণা করে কয়েকটি পরিবারের ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপাচ্ছেন গ্রামবাসীরা।
ঠিক কী বলা হয়েছে সেই ফতোয়ায়? গ্রামের নিদান অনুযায়ী, কোনো তরুণ-তরুণী পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করলে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে আর কেউ যোগাযোগ রাখতে পারবে না। বন্ধ করে দেওয়া হবে দুধসহ সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জোগান। ওই পরিবারের কেউ মজুর হিসেবে কাজ পাবেন না, আবার তাঁদের জমিতেও কেউ কাজ করতে পারবেন না। এমনকী, ওই পরিবারগুলিকে কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোনও গ্রামবাসী ওই একঘরে পরিবারগুলিকে সাহায্য করেন বা আশ্রয় দেন, তবে তাঁকেও একইরকম শাস্তির মুখে পড়তে হবে। ভিডিওটিতে নির্দিষ্ট করে তিনটি পরিবারের প্রধানের নাম নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে গ্রামবাসীরা উদবিগ্ন।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রশাসনের কর্তারা গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়েছেন যে, এই ধরনের বয়কট সম্পূর্ণ বেআইনি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের আইন অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের নিজের পছন্দে বিয়ে করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টও বারবার জানিয়েছে, এই ধরনের সামাজিক বয়কট বা পঞ্চায়েতি নিদান দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু তার পরেও খোদ পঞ্চায়েত স্তরে এই মধ্যযুগীয় মানসিকতা ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।
