আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের রাইসেন ও বিদিশা জেলার সীমানাবর্তী জঙ্গলে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড গোটা এলাকাকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। নিজের স্ত্রীর চরিত্রে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে এক ব্যক্তি যে ভয়ঙ্কর পথ বেছে নিলেন, তাতে প্রাণ হারালেন তার স্ত্রী এবং গভীর জঙ্গলে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া হল তাদের মাত্র দুই বছরের শিশুকে। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের রাতভর রুদ্ধশ্বাস অভিযানে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত দুই দিন আগে, যখন বেগমগঞ্জের হিমোটিয়া গ্রামের বাসিন্দা রাজেন্দ্র আহিরওয়ার তার স্ত্রী জ্যোতি এবং দুই বছরের পুত্রসন্তানকে নিয়ে মোবাইল ফোন কেনার বাহানায় বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু গন্তব্যে যাওয়ার পরিবর্তে রাজেন্দ্র তাদের নিয়ে যান হায়দারগড় থানা এলাকার একটি জনমানবহীন গভীর জঙ্গলে। সেখানে স্ত্রীর সঙ্গে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে রাগের মাথায় একটি বড় পাথর দিয়ে জ্যোতির মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন রাজেন্দ্র। ঘটনাস্থলেই জ্যোতির মৃত্যু হয়। কিন্তু রাজেন্দ্রর নিষ্ঠুরতা সেখানেই থেমে থাকেনি; নিজের কোলের শিশুকে হিংস্র বন্যপ্রাণী অধ্যুষিত ওই অন্ধকার জঙ্গলে ফেলে রেখেই তিনি সেখান থেকে চম্পট দেন।

পরিবারটি সময়মতো বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন আত্মীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশি তদন্তে রাজেন্দ্রর গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে এবং তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। জেরার মুখে রাজেন্দ্র স্বীকার করেন যে, তিনি তার স্ত্রীকে খুন করে লাশ জঙ্গলে ফেলে দিয়েছেন এবং শিশুটিকেও সেখানে একা ফেলে এসেছেন। এই স্বীকারোক্তি শোনামাত্রই পুলিশ প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। রাত গভীর হওয়ার কারণে জঙ্গলে বাঘ-সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর হামলার প্রবল আশঙ্কা ছিল।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই বারোটি থানার পুলিশ বাহিনীকে তলব করা হয়। শুরু হয় এক বিশাল উদ্ধার অভিযান। টর্চলাইট, ড্রোন এবং ডগ স্কোয়াড নিয়ে পুলিশ সদস্যরা সারারাত ওই দুর্গম অরণ্যে তল্লাশি চালান। প্রায় ১০ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর ভোরের আলো ফুটতেই ঝোপের আড়ালে শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকা এবং প্রচণ্ড আতঙ্কে শিশুটি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। উদ্ধারের পরপরই তাকে জল খাইয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি সুরক্ষিত আছে।

পুলিশ সুপার রোহিত কাশওয়ানি জানিয়েছেন যে, রাজেন্দ্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা ও তথ্য গোপনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানিয়েছে, স্ত্রীর চরিত্রের ওপর সন্দেহের কারণেই সে এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক মুহূর্তের অন্ধ ক্রোধে একটি সাজানো সংসার যেভাবে তছনছ হয়ে গেল এবং এক মাছুম শিশুকে যেভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হলো, তা ভেবে শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের মানবিক মুখ এবং তৎপরতার কারণে শিশুটি প্রাণে বাঁচলেও, তার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই ট্র্যাজেডি এবং মায়ের অভাব আজীবন এক ক্ষত হয়ে রয়ে যাবে।