আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে ডিএমকে ও কংগ্রেসের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের দল টিভিকে সরকার গঠনে সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নে কংগ্রেসের অবস্থানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে ডিএমকে। ডিএমকের শীর্ষ নেতৃত্ব কংগ্রেসের এই পদক্ষেপকে ‘ব্যাকস্ট্যাবিং’ বা ‘পিছন থেকে ছুরি মারা’ বলে অভিহিত করেছে, যা জোট রাজনীতিতে বড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতে কংগ্রেস একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা শর্তসাপেক্ষে টিভিকে-কে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত। এই সমর্থনের বিনিময়ে কংগ্রেস মন্ত্রিসভায় নির্দিষ্ট সংখ্যক মন্ত্রিত্ব এবং বিভিন্ন সরকারি বোর্ডে চেয়ারম্যান পদ দাবি করেছে। জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হতে পারে। এর পরপরই পনাইয়ুরে বিজয়ের সঙ্গে কংগ্রেস নেতাদের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ডিএমকে নেতৃত্ব মনে করছে, কংগ্রেস জোটের নৈতিকতা ভঙ্গ করেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ ও বোঝাপড়া উপেক্ষা করে কংগ্রেস একতরফাভাবে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চাইছে। ডিএমকের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে না, বরং ভবিষ্যতের জোট রাজনীতিকেও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্তকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। তাদের মতে, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী দলকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। কংগ্রেসের একাংশের দাবি, টিভিকে-র ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিজয়ের প্রভাবকে মাথায় রেখেই এই সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিজয়ের দল টিভিকে সম্প্রতি রাজনীতিতে প্রবেশ করেই উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন অর্জন করেছে। বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তামিলনাড়ুর প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের সমর্থন টিভিকে-র জন্য বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। একদিকে পুরনো জোটে ফাটল, অন্যদিকে নতুন জোটের সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এখন দেখার বিষয়, কংগ্রেস ও টিভিকে-র সম্ভাব্য জোট কতটা কার্যকর হয় এবং ডিএমকে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা কীভাবে করে।
&t=136s
সব মিলিয়ে, কংগ্রেসের এই পদক্ষেপ শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং তা রাজ্যের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। আগামী কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহই স্পষ্ট করবে, এই ‘ব্যাকস্ট্যাবিং’-এর অভিযোগ কতটা বাস্তব এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কতদূর গড়ায়।















