আজকাল ওয়েবডেস্ক: এলপিজির মূল্য এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে পরিবার ও রেস্তরাঁগুলি জ্বালানির জন্য কাঠ ব্যবহার করা শুরু করেছে। কিন্তু এর ফলে উদ্বেগও বাড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই প্রবণতা নতুন করে বায়ুদূষণ এবং গুরুতর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তাঁদের মতে, সৌরশক্তিচালিত বিদ্যুৎ এবং ইন্ডাকশন কুকারে রান্নার ফলে পরিবেশের ক্ষতি রোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটি টেকসই সমাধান হতে পারে।
সাধারণ মানুষ এবং রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতাদের মধ্যে জ্বালানি কাঠের ব্যবহারের ঝোঁক বৃদ্ধির খবর পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের দাবি, এলপিজি সিলিন্ডার পেতে অসুবিধা এবং খরচ বৃদ্ধির কারণে তাঁরা রান্নার জন্য কাঠ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের পরিবর্তন রান্নার জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহারে প্রায় দুই দশকের অগ্রগতিকে নষ্ট করে দিতে পারে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পুরুষোত্তম রেড্ডি বলেন, “সৌরশক্তি এখন একটি বড় সুযোগ হতে পারে। বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে, তা সহজেই ইন্ডাকশন কুকিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, যা কাঠ পোড়ানোর চেয়ে অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, কাঠ পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে, বিশেষ করে যাঁরা রান্নার জায়গার কাছে দীর্ঘ সময় কাটান তাঁদের জন্য। কাঠের ধোঁয়ায় ক্ষতিকর দূষক পদার্থ থাকে যা ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতার কারণ হতে পারে।
পুরুষোত্তম বলেন, “কাঠের উনুন ব্যবহার করে রান্না করার সময় ধোঁয়ার প্রকোপ অত্যন্ত বেশি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, এটি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা, প্রধানত সিওপিডি (COPD) সৃষ্টি করতে পারে।”
কাঠ পোড়ানোর ফলে কার্বন মনোক্সাইড, সূক্ষ্ম কণা পদার্থ (পিএম২.৫) এবং ব্ল্যাক কার্বন-সহ বিভিন্ন ক্ষতিকর দূষক নির্গত হয়, যেগুলি বাতাসের মান হ্রাস করে এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগ বৃদ্ধি করে।
পরিবেশ বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন যে, জ্বালানি কাঠের কার্বন পদচিহ্নও যথেষ্ট। মাত্র এক কিলোগ্রাম জ্বালানি কাঠ পোড়ালে প্রায় ১.৮ থেকে ২ কিলোগ্রাম কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) নির্গত হয়। যদি কোনও পরিবার বা বাণিজ্যিক রান্নাঘরে প্রায় ১০০ কিলোগ্রাম জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হয়, তবে তা থেকে প্রায় ২০০ কিলোগ্রাম CO2 নির্গত হতে পারে, যা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
আরও একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হল বন এবং শহুরে সবুজ স্থানের উপর এর সম্ভাব্য প্রভাব। জ্বালানি কাঠের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে আরও বেশি গাছ কাটা হতে পারে, যার ফলে বন আরও উজাড় হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের হার আরও তীব্র হবে। বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি কাঠ দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহারের জ্ঞান হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে এর ব্যবহার বেড়ে গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এলপিজি সরবরাহে ঘাটতির সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশবাদীরা বলছেন, এই পরিস্থিতি পুনর্নবিকরণযোগ্য জ্বালানি আরও বেশি করে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে।
