আজকাল ওয়েবডেস্ক: চার দেওয়ালের মধ্যে ছোট্ট দোকান। তাতেই এঁটে থাকেন চারজন। মালিক দম্পতি ও দুই কর্মী।‌ দিনরাত এক করে ড্রাই ক্লিনিং থেকে ইস্ত্রি করছেন সকলে মিলে। চারজনের মিলিত চেষ্টাতেই হাজার হাজার টাকা উপার্জন। মাস গেলে প্রায় তিন লক্ষ টাকা উপার্জন করছে ওই মালিক দম্পতি। 

অনেকেই ভাবেন, সরকারি চাকরি বা স্থায়ী চাকরি মানেই জীবন একেবারে নিশ্চিন্তের। তাই পড়াশোনা করেই সরকারি চাকরির চেষ্টায় ইঁদুর দৌড়ে সামিল হন অনেকে। কিন্তু জানেন কি, স্থানীয় এক ড্রাই ক্লিনার মাসে দু'লক্ষ টাকার বেশি উপার্জন করছেন। তাঁর উপার্জনের কাহিনিই এক মহিলা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। 

ওই মহিলা জানিয়েছেন, ড্রাই ক্লিনিং ও ইস্ত্রির ওই ছোট্ট দোকানেই প্রতি মাসেই দু'লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা উপার্জন হয়। দোকানের বিদ্যুতের বিল, কর্মীদের বেতন, বাদবাকি খরচের পর মালিক দম্পতির লাভ হয় দু'লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। আরও একটি লাভের বিষয়, দোকানটি তাঁদের বাড়ির একটি ঘরে। তাই ঘর ভাড়ার অতিরিক্ত খরচ হয় না। 

এক্স হ্যান্ডেলে ওই মহিলা লিখেছেন, দিন কয়েক আগেই বাড়ির পাশের ড্রাই ক্লিনারের দোকানের মালিকের সঙ্গে কথা বলছিলাম। ওই মালিক দম্পতিই জানিয়েছে, মাসে প্রায় তিন লক্ষ টাকা উপার্জন করেন তারা। ভারতে দশ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরাও মাসে এত টাকা উপার্জন করেন না। 

মহিলা আরও জানিয়েছেন, প্রতিদিন ৩৫০ জামাকাপড় তাঁরা ইস্ত্রি করেন। প্রতি জমা ইস্ত্রি করার জন্য ১০ টাকা নেন। এর থেকে দিনে সাড়ে তিন হাজার টাকা উপার্জন। পাশাপাশি স্যুট, শাড়ি আরও দামি জামাকাপড় ড্রাই ক্লিনিং করে সাত হাজার টাকা উপার্জন করেন। দিনেই তাঁদের গড় উপার্জন সাড়ে দশ হাজারের বেশি। 

এই দোকানটি মাসে তিনদিন বন্ধ থাকে। বাকি ২৭ দিন খোলা। যা থেকে দু'লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা উপার্জন করেন তাঁরা। বিদ্যুতের বিল বাবদ ছ'হাজার টাকা এবং দুই কর্মীর বেতন ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। বাকিটা তাঁদের লাভের অংশ। 

পোস্টটিতে মজা করে একজন কমেন্ট করেছেন, 'এবার আইটি চাকরি ছেড়ে ইস্ত্রি করাই শুরু করব ভাবছি।' আরেকজন লিখেছেন, 'তাও এঁদের ট্যাক্স দিতে হয় না। এদিকে ৭০ হাজার টাকা উপার্জন করলেও সকলকে ট্যাক্স দিতে হয়।' আরেকজন লিখেছেন, 'মেট্রো শহরেই এত উপার্জন করা সম্ভব। ছোট শহরে এত উপার্জন করা যায় না।'