আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রতিবেশী দাদাদের সঙ্গেই খেলতে যেত খুদে মেয়েটি। কিন্তু সেই পরিচিত দাদাদের বিরুদ্ধেই এবার ৬ বছরের এক শিশুকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল দিল্লির ভজনপুরায়। গত ১৮ জানুয়ারির এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তিন নাবালকের, যাদের বয়স যথাক্রমে ১০, ১৩ এবং ১৬ বছর। পুলিশ ইতিমধ্যেই ছোট দু’জনকে ধরেছে। তবে বড় ছেলেটি গা-ঢাকা দিয়েছে বিহারে। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিন সন্ধ্যাবেলা মাসির বাড়ি থেকে ফিরছিল ওই শিশু। অভিযোগ, তাকে ভুল বুঝিয়ে একটি বাড়ির ছাদে নিয়ে যায় ওই তিন কিশোর। সেখানেই তার ওপর পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েটি বাড়ি ফিরলে প্রথমে ভয়ে বলেছিল, সে পড়ে গিয়েছে। কিন্তু শরীরের ক্ষত দেখে মা চেপে ধরতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে সব কথা জানায় খুদে নির্যাতিতা।
তদন্তে নেমে পুলিশ ওই বাড়ির ছাদে রক্তের দাগও পেয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় সবথেকে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছেন ১০ বছরের এক অভিযুক্তের মা। নির্যাতিতার রক্তমাখা মুখ দেখে নিজের ছেলেকে তিনি নিজেই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। বাকিদেরও কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছে শিশুর পরিবার। পুরো ঘটনার তদন্তে পুলিশ৷
অন্যদিকে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন সহবাস। এমনকী বার বার গর্ভপাতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠল অন্ধ্রপ্রদেশের জনসেনা বিধায়ক আরাভা শ্রীধরের বিরুদ্ধে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেলওয়ে কোডুরু কেন্দ্রের ওই বিধায়ক। বিধায়কের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগে চরম শোরগোল।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী একজন সরকারি কর্মী। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর শ্রীধরের কুনজর পড়ে। শুরু হয় সহবাস। তাঁর দাবি, গাড়িতে করে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রথমবার জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করেন অভিযুক্ত বিধায়ক। মহিলার অভিযোগ, গত এক বছরে তাঁকে পাঁচ বার গর্ভপাত করাতে বাধ্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য তাঁর স্বামীকে ফোন করে বারবার হুমকি দেওয়া হত বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ওই ভিডিওতে নির্যাতিতা বলেন, "ও বলেছিল গর্ভপাত করালে তবেই আমার পরিবার আর চাকরি বাঁচবে। আমি রাজি না হওয়ায় আমাকে ভয় দেখানো হয়। পরে আশ্বাস দেয় যে স্বামীকে ডিভোর্স দিলে ও আমাকে বিয়ে করবে।"
পাল্টা ভিডিও বার্তায় বিধায়ক শ্রীধর জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, "আমি পবন কল্যাণের আদর্শে মানুষের কাজ করছি। আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এই চক্রান্ত।" তিনি আরও জানান যে, উল্টে গত ছ’মাস ধরে তিনিই হেনস্থার শিকার হচ্ছেন এবং এই নিয়ে তাঁর মা পুলিশে অভিযোগও জানিয়েছেন।
গোটা ঘটনায় পুলিশের তরফে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে অন্ধ্রপ্রদেশ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রায়পতি শৈলজা নিজে উদ্যোগী হয়ে অভিযোগকারিণী মহিলার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে।
